জেয়ান, হাওয়ার সন্তান

আলোকচিত্র। খুররম পারভেজ

মাতৃগর্ভে ফিরে যাওয়ার স্রেফ একটা রাস্তাই মানবিক।

জীবনভর পরিব্রাজনের পর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া।

কোনো এক নদীর তীরে, ঘাসের বিছানার নিচে।

অথচ ছোট্ট জেয়ান জীবনের কিছুই দেখলো না।

— ছয় বছরের জীবনে কতোটুকুই বা দেখা যায়?

সে জানলো না ছেলে থেকে ব্যাটাছেলে হতে

একটা লোককে কয়টা শৈশব ফেলে আসতে হয়!

সে জানলো না প্রথমবার প্রেমে পড়ার পর

পাশের বাসার মেয়েটিকে কেনো হেলেন মনে হয়!

সে জানলো না অক্ষরে হারিয়ে যেতে যেতে

নিজেকে কেনো পামুকের কোনো চরিত্র মনে হয়!

সে জানলো না খেলায় হেরে যেতে যেতে

একদিন হঠাৎ জিতে গেলে কেমন লাগে মানুষের!

— ছয় বছরের জীবনে কতোটুকুই বা জানা যায়?

সে শুনলো না তার তুষারে ছাওয়া দেশের

শ্বাস রুদ্ধ কান্না, যা আতশ-ই-চিনার হয়ে গেছে!

সে শুনলো না সেই মহিলা কণ্ঠের চিৎকার

বিয়ের রাতে মিলিটারিরা যাকে তুলে নিয়ে গেছে!

সে শুনলো না সেই যুবকের হারানো হার্টবিট

যে একদিন বই ফেলে রাইফেলের কাছে গেছে!

— ছয় বছরের জীবনে কতোটুকুই বা শোনা যায়?

আজকে আরেকটা আম্মির কোল খালি করলো ওরা।

লাইন অফ কন্ট্রোলে।

জানা গেলো, জেয়ান কখনোই ইন্ডিয়ান ছিলো না।

পাকিস্তানিও ছিলো না।

হেব্বা খাতুনের সময় থেকে সে কাশ্মীরী ছিলো।

হাওয়ার ছেলেকে মানুষ শব্দটার মতোই মৃত দেখায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *