আন্ধাধুন রহস্যঃ আকাশ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলো কীভাবে?

সিমি আকাশকে মিষ্টির সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়েছিলো। কিন্তু আকাশ মরে নাই, তার লিভার শক্তিশালী। লিভারের অন্যতম কাজই তো কেমিকাল ডিটক্সিফাই করা।
 
সিনেমার শেষদিকে ডাক্তারের একটা সংলাপ থাকে, “জীবন কী? এটা লিভারের ওপর ডিপেন্ড করে।” ইন ফ্যাক্ট সিনেমার শুরুতেও এই সংলাপ থাকে। স্ক্রিণে ভেসে ওঠে।
 
সিমি আকাশকে অন্ধ করে দিয়েছিলো এটা সত্য! তাহলে পরবর্তীতে সে অন্ধ অবস্থায় কীভাবে মুরলির মায়ের হাতে শিবের ট্যাবু বা ট্যাক্সির পেছনে ঐশ্বরিয়ার ছবি দেখলো? জটিল কিছু না, সহজ ব্যাখ্যা আছে এসবের!
 
মুরলির মা বহুদিন আগে যখন তাকে লটারির টিকেট ছুঁয়ে দিতে বলে, তখনই তার হাতে শিবের ট্যাটু দেখেছিলো সে, জাস্ট মরে রেখেছিলো। ট্যাক্সির কাহিনীও সহজ। এইটা সেই ট্যাক্সি, যা মুরলির মার পরিচিত এক লোক চালায়, এবং যাতে করে সে পুলিশ স্টেশনে গেছিলো।
 
আকাশ কি সিনেমার শেষদিকে সোফিকে সত্য বলে? সে হয়তো ডাক্তারের দেয়া অফারটা ফিরিয়ে দিয়েছিলো, এই কারণে না যে সে মহামানব, এই কারণে যে একদিন আগে তার দুটো কিডনিই বেচে দিতে চাওয়া লোক বিশ্বাসযোগ্য নয়! কিন্তু সিমির একসিডেন্টের পেছনে যে একটা খরগোশের ভূমিকা আছে এটা সে কীভাবে ‘দেখলো’? সে না অন্ধ? নাকি এটা আসলে আকাশের একটা বানোয়াট গল্প? হয়তো আকাশ ডাক্তারের দেয়া প্রস্তাবটা লুফে নিয়েছিলো? আফটার অল, ব্যাপারটা যে শুধু টাকার নয় ডাক্তার কিন্তু সেটাও বলেছিলো আকাশকে, ক্রিমিনাল সিমিকে মেরে মিডলইস্টের এক শেখের ইনোসেন্ট মেয়ের জীবন বাঁচানোর ‘উপযোগবাদী’ একটা ডাইমেনশনের কথা বলেছিলো!
 
আমার মনে হয়, আকাশ সোফিকে সত্যই বলেছিলো। সে ডাক্তারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়, তারপর সোফিও মারা যায় একসিডেন্টেই, তবে সোফির একসিডেন্টের কারণ হয়তো অন্য কিছু ছিলো (যা আকাশ, অন্ধ হওয়ায়, দেখেনি) এবং খরগোশের গল্পটা বানানো। এরপর কী হয়? ফিরে গিয়ে মুরলির মায়ের সাথে যোগাযোগ করে। সেই দৃশ্যটার কথা মনে আছে, যেখানে পুত্রশোকে কাতর মহিলাকে এক ডাক্তার সান্ত্বনা দিচ্ছিলো এই বলে যে চাইলে সে ছেলের অর্গান ডোনেট করতে পারে? মুরলির মৃত্যুর পেছনে তার মায়ের অতিলোভও দায়ী, আরো অনেককিছুর পাশাপাশি, মহিলা নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চেয়ে থাকবে। আর এটাই আকাশের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবার কারণ, মুরলির চোখ দিয়ে, সে নতুন করে পৃথিবীর আলো দেখতে পেলো!

এটা অনুমান মাত্র। আন্ধাধুনের ক্ষেত্রে যে-কোনোকিছুই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এই সিনেমার শেষ দৃশ্যের ভিন্নতর ব্যাখ্যাও সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *