//চতুর্থ শিল্প যুগঃ অরিত্রিদেরকে আপনি কতোটা চেনেন?

চতুর্থ শিল্প যুগঃ অরিত্রিদেরকে আপনি কতোটা চেনেন?

PHOTO GE REPORTS

আমাদের পাশের বাসায় একটা পিচ্চি আছে, নাম ইরফান, বয়স ৭-৮এর বেশি হবে না। এলাকায় একটা মাদ্রাসা আছে, সেখানে হাফেজি পড়ে। আমি ওর বয়সে অ্যাঁ বললে ব্যাঁ বুঝতাম। কম্পিউটার কী সে-ব্যাপারে কোনো ধারণাই ছিলো না। আর সে এই বয়সে ইন্টারনেট চালাতে পারে। নিজে নেট কানেকশন দিয়ে ইউটিউবে যেতে পারে। বাচ্চাদের খেলনার কিছু ভিডিও আছে, সেগুলো দেখে।

শুধু ইরফান কেনো, ২০০০এর পরে জন্মানো যেসব ছেলেমেয়ে আমি দেখেছি, এরা আমাদের জেনারেশনের তুলনায় ২০০০ গুণ শার্প।

আমরা জন্মেছিলাম তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের যুগে, এরা জন্মেছে সেই যুগের শেষ দশকে নতুন একটা সহস্রাব্দের সূচনালগ্নে, এখন প্রবেশ করছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে।

প্লেটো থেকে ন্যাটো, কনফুশিয়াস থেকে কার্ল মার্ক্স, আর জেসাস ক্রাইস্ট থেকে জেরেমি করবিন… এদের জন্য মহাফেজখানার বিষয়। এদের কোনো দার্শনিক, সমাজতাত্ত্বিক, রাজনৈতিক বর্তমান নাই। তৃতীয় সহস্রাব্দ এদের হাতে কিছু প্রযুক্তি ধরিয়ে দিয়েছে, কিন্তু সেই প্রযুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো দর্শন-সমাজতত্ত্ব-রাজনীতি দেয় নাই, পুরনো দর্শন-সমাজতত্ত্ব-রাজনীতিও এদের চাহিদানুযায়ী নিজেকে আপডেট করে নিতে পারে নাই।

ইউ সি, দিস ইজ দেয়ার এগজিস্টেশনশিয়াল প্যারাডক্স।

যে চোখ ফোটার পরেই দেখেছে ফেসবুক, ইউটিউব, কিংবা টুইটার; উনিশশতকের প্রথম শিল্প বিপ্লবের যুগের প্রোডাকশন-লাইন অর্থনীতির শ্রমশক্তি যোগানের জন্য গড়া শিক্ষাব্যবস্থায়, পড়ার টেবিলে মন বসবে না তার।

আপনারা কেউ কখনো এই বিষয়টা নিয়ে ভেবেছেন?

পশ্চিমে তবু ওরা বিষয়টা নিয়ে ভাবছে, আমাদের এখানে ভাবার কাজটাই শুরু হয় নাই, করা তো পরের ব্যাপার!

আপনার কি ধারণা, আপনার মাস্টাররা ছোটোবেলায় আপনারে জালিবেত দিয়ে পেটাতো বলেই আজ আপনি অনেক বড়ো একজন ডাক্তার হয়েছেন এই জাতীয় কথাবার্তা বললে, এরা আপনাকে কী চোখে দেখবে? ব্রুটালি স্পিকিং, এরা আপনাকে ছাগল হিসেবে দেখবে। পাত্তাই পাবেন না!

আমাদের দেশে এই জেনারেশনের অবস্থা আরো করুন। এদের জন্য খেলার কোনো মাঠ রাখেন নাই, নদীগুলো সব বালু ফেলে ভরাট করে সেখানে মার্কেট বানিয়েছেন, এবং বাতাস এতো দূষিত করেছেন যে শ্বাসটুকু পর্যন্ত নিতে কষ্ট হয়। বাইরের জগতটাকে যেহেতু দোজখ বানিয়ে রেখেছেন, তাই এরা অন্তর্মুখী হচ্ছে, আর অন্তর্মুখী মানুষ ভয়ানক রকমের সংবেদনশীল হয়।

যতোটা সংবেদনশীল হওয়াটা স্বাভাবিক তারচে অনেক বেশি।

এরা আত্মহত্যা করবে না, তো কী করবে?

যারা আত্মহত্যা করছে না তারা কীভাবে বাঁচছে? খোঁজ নিয়েছেন কোনোদিন? আপনাদের পার্টি ইশতেহারগুলো অতীতের মুখস্ত কথাবার্তায় ভর্তি, ওরা কোনোদিন এসব ছাইপাঁশ ছুঁয়ে দেখবে, সত্যিই মনে করেন এমনটা?

২০০০এর পরে প্রযুক্তির অভাবিক বিকাশ হয়েছে, সত্য।

কিন্তু নতুন কোন দার্শনিক চিন্তাটা দুনিয়ায় এসেছে? নতুন কোন সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বটা পৃথিবীতে আলোড়ন তুলেছে? নতুন কোন রাজনৈতিক মতবাদ মানুষকে জাগিয়ে তুলেছে?

আস্ত একটা সভ্যতা যেনো হঠাৎ থেমে গেছে, প্রতিটা দিন আগের দিনের একটা পুনরাবৃত্তি মাত্র, অনন্তকাল ধরে এক সোমবারের পর আরেক সোমবার আসছে আর তারপর আসছে আরেক সোমবার…

মানুষ পশু না যে শুধু খাওয়াপড়া পেলেই চলবে তার, কৃষি বিপ্লবের পর থেকেই মানুষের একটা সাংস্কৃতিক জীবন লাগে, অরিত্রিদের জেনারেশন এখনো সেই সাংস্কৃতিক জীবনটার দেখা পায় নি।

Please follow and like us: