//“স্বৈরতন্ত্র সমাজের খোদ বুননটাই বদলে দিচ্ছে” : এলিফ সাফাকের সাক্ষাৎকার

“স্বৈরতন্ত্র সমাজের খোদ বুননটাই বদলে দিচ্ছে” : এলিফ সাফাকের সাক্ষাৎকার

আলোকচিত্র ভিক্টোরিয়া বিরকিনশ

অনুবাদকের নোটঃ এলিফ সাফাক একজন তার্কিশ লেখক, অ্যাকাডেমিক, নারী অধিকার কর্মী, পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল, ও বক্তা। তিনি তাঁর মাতৃভাষা তুর্কি ও ইংরেজি দু’য়েই লেখেন, এ-পর্যন্ত মোট ১৫টি বই লিখেছেন, যার ভেতরে ১০টিই উপন্যাস। তাঁর বইগুলো পৃথিবীর ৪৮টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ইস্তানবুলের জারজ উপন্যাসটি আধুনিক তুর্কি সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আর্মেনীয় গণহত্যা নিয়ে স্পষ্টভাবে আলাপ করেছে, যা তুর্কি উগ্র জাতীয়তাবাদীদেরকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছে, মামলাও হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাফাক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং পরে নারী ও লিঙ্গ অধ্যয়ন নিয়ে পড়েছেন, তারপর পিএইচডি করেছেন রাজনীতিবিজ্ঞান ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপরে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ইওরোপীয় সাহিত্যের উইডেনফিল্ড ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে আছেন। এলিফ সাফাক একজন টেড গ্লোবাল স্পিকার, এবং ইওরোপিয়ান কাউন্সিল অফ ফরেন রিলেশনসের (ইউসিএফআর) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ২০১০এ ফরাশি সরকার তাঁকে Chevalier Des Arts et Lettres পুরস্কারে সম্মানিত করে। 

এলিফ সাফাক একজন তার্কিশ ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার যার উদযাপিত সাহিত্যকর্মের ভেতরে রয়েছে  “ইস্তানবুলের জারজ” আর “স্থপতির শিক্ষানবিশ”। তুরস্কে এই সপ্তাহের রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় তিনি কথা বলেছেন দি ওয়ার্ল্ডপোস্টের সম্পাদক নাথান গার্ডেলসের সাথে।

ওয়ার্ল্ডপোস্টঃ তুরস্ক একটা জায়গা যেখানে একটা মন্দ অর্থনীতি বা অভিবাসনের ভয় জনপ্রিয় বিদ্রোহের ইন্ধন যোগায় নি। রাষ্ট্রপতি রেজেপ তাইপ এরদোয়ানের ক্ষমতা সংহতকরণের পরের এই কয়েক মাসের কথা ভাবলে, কোন প্রাথমিক প্রণোদনা সমাজকে একটা স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে?

সাফাকঃ তুরস্কের সাম্প্রতিক ট্রাজেক্টরি অনেকভাবেই অনন্য। কিন্তু অন্যভাবে ভাবলে, আর সব জায়গায় আমরা যে লোকরঞ্জনবাদী আন্দোলন দেখি, তার অন্ধকার প্রতিধ্বনি পাওয়া যাবে এখানেওঃ যেটুকুই মেধাক্রমতন্ত্র ছিল তার প্রায় পুরোটাই নেই হয়ে যাওয়া; রাজনীতির ক্ষেত্রে একটা পুরুষালি “শক্তের ভক্ত নরমের যম” অ্যাপ্রোচ নেয়া; ক্ষমতার পৃথকীকরণের অবক্ষয় ঘটা; গণমাধ্যমের ওপর বিধবংসী হামলা চালানো; সহাবস্থানের সংস্কৃতির ক্ষয়প্রাপ্তি; এবং এর সমাজের মেরুকরণ, যা আখেরে স্রেফ লোকরঞ্জনবাদী নেতাদেরই কাজে আসে। আর তাঁরা ঠিক এটাই চান।

এই এবং অপরাপর বিবেচনায়, সারা দুনিয়ার গণতন্ত্রসমূহ ও প্রগতিশীলদের তুরস্ক থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেবার আছে, কারণ যা এখানে ঘটেছে তা অন্য যে-কোনো জায়গায় ঘটতে পারে।

এখানে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা দরকার। তুরস্ক, ঠিক রাশিয়ার মতোই, “শক্তিশালী রাষ্ট্র” ঐতিহ্য থেকে এসেছে। এর উৎস খুঁজতে সেই অটোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত যেতে হবে। একটা শক্তিশালী রাষ্ট্র ঐতিহ্যের দেশে, রাষ্ট্রকে সবসময়ই প্রাধান্য দেয়া হয় ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও সিভিল সমাজকে খরচের খাতায় লিখে রেখে, এবং এসব দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে “সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের” সাথে “গণতন্ত্রকে” গুলিয়ে ফেলাটা রাজনৈতিক অভিজাতদের জন্য সহজতর। কিন্তু বাস্তবে এই দুটো সম্পূর্ণরূপে আলাদা জিনিশ।

একটি গণতন্ত্রকে অস্তিত্বশীল করা ও টিকিয়ে রাখার জন্য, ব্যালট বক্সের চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় আইনের শাসন, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় গণমাধ্যম, স্বাধীন বিদ্যায়তন, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার, ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা। তুরস্কে, এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলাপমেন্ট পার্টির (একেপি) ১৬ বছর ধরে চলা ক্রমবর্ধমান স্বৈরশাসনে গণতন্ত্রের এই সকল উপাদান হয় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে আর না হয় ভেঙে গেছে। তাহলে আমরা কী করে এটাকে গণতন্ত্র বলবো? এটা গণতন্ত্র না। একবার সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ সংহত হয়ে যাওয়ার পরে, সেখান থেকে পড়ে গিয়ে স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হতে বেশি সময় লাগে নি।

স্বৈরতন্ত্র তার নিজস্ব ধরণের আতঙ্ক, হুমকি, আর সেলফ-সেন্সরশিপের জলবায়ু তৈরি করে। যখন স্বৈরতন্ত্র দৈনন্দিন জীবনের সকল বিষয়ে আর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলোতে অনুপ্রবেশ ঘটায়, এটা শুধু রাজনীতি আর রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কলকব্জাগুলোতেই পরিবর্তন আনে না, এটা সমাজের গোটা বুননটাই বদলে ফেলে। তুরস্কের শিক্ষাব্যবস্থা এখন অনেক বেশি ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী। ২০০০ থেকে, ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলো থেকে পাশ করে বেরোনো শিক্ষার্থীদের সংখ্যাটা ৬০০০০ থেকে ১৫ লাখে পৌঁচেছে।

সব কথার শেষে, আমাদের এই চমকপ্রদ তথ্যটা এড়িয়ে যাওয়া উচিত হবে না যে, এরদোয়ান আর তার কোটারি যে-অনন্যসাধারণ ক্ষমতা ভোগ করে তা সত্ত্বেও, বিশেষত প্রায় চিরস্থায়ী হয়ে যাওয়া একটা জরুরী অবস্থায়, সমাজের অন্তত অর্ধাংশ একচেটিয়া ক্ষমতাকে প্রতিরোধ করা অব্যাহত রেখেছে, এবং অব্যাহত রেখেছে সক্রিয়ভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে চলা। এই অর্থে, তুরস্ক রাশিয়া নয়, একেবারেই না।

ওয়ার্ল্ডপোস্টঃ  আপনি যখন মানুষকে বোকা বানাতে চান, তখন আপনি যাদের কাছে গিয়ে পৌঁছান, তাদের জন্য পরিসর তৈরি করেন। আমি ভাবছি কথাটা এরদোয়ানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কীনা। একটা ব্যর্থ সামরিক ক্যুদেতা আর তার সাথে আসা গ্রেফতার, দমনপীড়ণ, ও রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতা সংহতকরণের পরে, মনে হচ্ছে তুরস্কে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের দিকে যাওয়া দীর্ঘ রাস্তাটা একটা কানাগলিতে এসে শেষ হয়েছে। এখন আমরা প্রতিরোধের একটা প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এই নির্বাচনে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আপনিও কি বিষয়টাকে এভাবে দেখেন, নাকি নিকট ভবিষ্যতের জন্য দৃশ্যটা বিবর্ণই রয়ে যায়?

সাফাকঃ সামরিক ক্যুদেতা প্রচেষ্টাটা লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য একটা ভয়ংকর ট্রমা ছিলো। এটা ছিল পুরোপুরি একটা ভুল, সমর্থনঅযোগ্য, এবং হতবুদ্ধিকর, এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই এটা পরিস্থিতিকে আরো শোচনীয় করে তুলেছে। আর তারপর এলো সেই পার্জ, যাতে হাজার হাজার মানুষকে অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত, আটক, গ্রেফতার, বা নির্বাসিত করা হয়েছিলো।

আজকের তুরস্কে বেইনসাফির অজস্র ব্যক্তিগত গল্প বলার অপেক্ষায় আছে। সাধারণ নাগরিকরা, যাদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে বা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। অ্যাকাডেমিকরা, যারা তাঁদের চাকুরি ও পাসপোর্ট হারিয়েছেন, আর কিছু ক্ষেত্রে, স্রেফ একটা পিস পিটিশনে সাক্ষাৎকার করায় আটক হয়েছেন। তুরস্ক সাংবাদিকদের জন্য দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় জেলখানায় পরিণত হয়েছে, যা এমনকি চিনকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই পুরো পরিস্থিতিটাই গ্রহণঅযোগ্য।

একটা বিষয় পরিষ্কারঃ তুরস্কের উদারনীতিক ও গণতন্ত্রীরা সামরিক জান্তা বা বেসামরিক স্বৈরতন্ত্র এর কোনোটাই চান না। যা আমাদের দরকার তা হচ্ছে একটা যথাযথ বহুত্ববাদী গণতন্ত্র। তুরস্কের মতো দেশগুলোর ট্র্যাজেডি হচ্ছে যে এইসব ক্ষেত্রে, সিভিল সমাজের সদস্যরা – বা তাঁদের অধিকাংশই – সরকারের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকে, কিন্তু রাজনৈতিক অভিজাতদেরকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা তাঁদের থাকে না।

এই নির্বাচনের পরে বিষয়গুলো কঠিনতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুরস্ক একটা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে – আমার ভয় হল, এটা একটা অন্ধকারতর পর্যায়। ক্ষমতার একচেটিয়াকরণ স্টিম ইঞ্জিনের গতিতে এগিয়ে চলেছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স দেখিয়েছে যে, তুরস্কের গণমাধ্যম কাভারেজের প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারপন্থী। বিরোধীদলীয় নেতা মুহাররেম ইনকে যথার্থই সাবধান করেছেন, দেশটা এখন এক-ব্যক্তির শাসনতন্ত্রে পরিণত হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ডপোস্টঃ এমন কোন এলাকা আছে কি যেখানে এরদোয়ানের ক্ষমতার শেষ প্রান্তে থাকা লোকজন সায়ত্ত্বশাসিত পরিসর তৈরি করছে যা ফাটলের ভেতরে বেড়ে উঠবো এবং একসময় প্রস্ফুটিত হবে, হয়তো একদিন প্রকাশ্যেই প্রস্ফুটিত হবে?

সাফাকঃ যে-সব দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার অবক্ষয় ঘটেছে; মানুষকে অবহিত করা, যুক্ত করা, এবং আধিপত্যশীল বয়ানের একত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য সামাজিক গণমাধ্যম সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম রয়ে গেছে। অতিসাম্প্রতিককালের আগ পর্যন্ত, তুরস্কে সামাজিক গণমাধ্যম ছিল এরকম একটি ফাটল – পুরোপুরি সায়ত্ত্বশাসিত নয়, কিন্তু অন্ততপক্ষে সীমিত স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্য সহকারেই। কিন্তু সেটাও ক্ষয়ে এসেছে এবং এখন সেখানেও আগের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটা টুইট বা ফেসবুক পোস্টের জন্য আদালতে অভিযুক্ত হওয়া লোকজনের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে।

আমি বরং তুরস্কের মেয়েদেরকে নিয়ে অধিকতর আশাবাদী, – আর এর মাধ্যমে আমি সব ব্যাকগ্রাউণ্ডের মেয়েদেরকেই বোঝাচ্ছি। যখন একটা দেশ স্বৈরাচারের খাদে পড়ে যায়, নারীদের পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি কিছু হারানোর থাকে। আর তুরস্কের মেয়েরা সরকারবিরোধী র‍্যালি ও প্রচারণার সম্মুখসারিতে আছেন। এটা অত্যন্ত যৌনবাদী, পিতৃতান্ত্রিক একটা দেশ, এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে, তাই এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত যা ব্যাপকবিস্তৃত সংহতি ও সিস্টারহুড প্রত্যাশা করে।

কিন্তু আবারো, প্রশ্নটা হল, নারীরা কি পার্টি লাইনের বাইরে গিয়ে, তাঁদের ভেতর কমন পড়া কারণগুলোর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেন? এটা অর্জন করা কঠিন। আর নারীরা যখন বিভক্ত থাকেন, এর থেকে স্ট্যাটাস কো আর খোদ পিতৃতন্ত্রই উপকৃত হয়।

ওয়ার্ল্ডপোস্টঃ নির্বাচনটা যেভাবে হল, পরবর্তীতে কী আশা করতে পারি আমরা?

সাফাকঃ এটা কোনো স্বাভাবিক নির্বাচন ছিল না। আমাদেরকে এই বিষয়টার ওপর আলোকপাত করতে হবে। এটা না ছিলো ন্যায্য, না ছিলো স্বচ্ছ। সেলাহাত্তিন দেমিরতাস, বিরোধীদলীয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয়, কুর্দি-সংখ্যাগরিষ্ঠ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) প্রধান, বাধ্য হয়েছেন তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা কারাকক্ষ থেকে চালাতে। এইচডিপির স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, আটক হয়েছেন, বা হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরছেন।

মুহাররেম ইনকে, মূল বিরোধীদল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) প্রধান, একজন গুরুত্বপূর্ণ, ক্যারিজমাটিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। অনেক বছরের ভেতরে এই প্রথমবার এমনটা ঘটলো, লক্ষ লক্ষ সেকুলারিস্টকে তিনি আশা দিলেন, এবং জনসাধারণকে উদ্দীপিত করে তুললেন। যদিও তিনি গণমাধ্যমে এয়ারটাইমের একটা ভাগ পান নি। সব টিভি চ্যানেল আর সংবাদপত্র এরদোয়ানকে কাভার করে গেছে, আর তার প্রতিপক্ষের জন্য বরাদ্দ করেছে খুবই স্বল্প সময়। কিন্তু, এরপরও, ইনকে ঘুরে দাঁড়াতে ভালোই সক্ষম হয়েছেন।

এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, বিরোধীদলীয় নেতারা, প্রথমবারের মতো, সংহতি প্রদর্শনে সমর্থ হয়েছেন। এই কারণেই সেকুলারিস্ট আর গণতন্ত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আশা দেখা দিয়েছিলো, আর এই কারণেই আজকে আমরা এতোটা ধাক্কা খেয়েছি। কুর্দি-সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টি, নারী রাজনীতিকদের সংখ্যা যাদের ভেতর সর্বোচ্চ, তাঁরা যে সংসদে ঢুকতে পেরেছেন এটা একটা তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন। সব বিশ্লেষণই আমাদেরকে দেখায় যে এটা সম্ভব হয়েছে দেশের পশ্চিম থেকে আসা ভোটগুলোর কারণেও, শুধু পুবদিক থেকে আসা ভোটগুলোর কারণেই নয়। এটা দারুণভাবে ইতিবাচক।

যা-হোক, নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি এরদোয়ানের হাতে। যেনো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার জন্য সেটাই যথেষ্ট ছিলো না, আমাদেরকে অবশ্যই এখন থেকে মাথায় রাখতে হবে উগ্র-জাতীয়তাবাদী উগ্র-ডানপন্থী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির (এমএইচপি) ভূমিকা, যা তাঁরা এরদোয়ানের জোটসঙ্গী হিসেবে পালন করবে। এমন একটা জোট কুর্দিদের সাথে শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটাতে সক্ষম নয়। বরং, আমরা আধিপত্যশীল মতাদর্শ হিসেবে জাতীয়তাবাদ আর ইসলামপন্থার একটা বৃদ্ধি দেখবো, যা বয়ে চলবে সমাজের ভেতর দিয়ে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবে। আমরা গোত্রবাদী ও লোকরঞ্জনবাদী মস্তিষ্কবিকৃতির বৃদ্ধিও দেখবো, আর “মহান অটোমান অতীত” নিয়ে কথাবার্তাও অনেক বাড়বে। আমার মাতৃভূমি এই নির্বাচনের ভেতর দিয়ে একটা অন্ধকার টানেলে প্রবেশ করেছে।

এই সাক্ষাৎকারটি ২৬ জুন ২০১৮য় প্রথম ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত হয়, বারগ্রুয়েন ইন্সটিটিউটের সাথে যৌথভাবে, দি ওয়ার্ল্ডপোস্ট সিরিজে।

Please follow and like us: