মিলনের জন্য কেউ কোনো কবিতা লিখবেন না?

 
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প নামে একটা কবিতা লিখেছিলেন, যেখানে এক রাজনৈতিক কর্মীর ওপর অত্যাচারের বর্ণনা এসেছিলো।
 
সেই কবিতার একটা পঙক্তি উদ্ধৃত করা যাক।
 
“একটি একটি করে উপড়ে নেয়া হলো তার নির্দোষ নখগুলো।”
 
জাকির হোসেনের মিলনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে, কবিতায় নয় বাস্তবে, যদিও তার কপালে কোনো কবিতা জোটে নি।
 
রুদ্রবর্ণিত রাজনৈতিক কর্মীটি ছিলো “সাম্যমন্ত্রে দীক্ষিত”, যে “পাকস্থলির কষ্টের কথা… অনাহার আর ক্ষুধার কথা… বস্ত্রহীনতার কথা” বলতো।
 
মিলন অবশ্য সাম্যমন্ত্রে দীক্ষিত ছিলেন না, তিনি যাঁদের হাতে অত্যাচারিত হয়েছেন, তাঁদের মতোই তিনিও পুঁজিতন্ত্রেই দীক্ষিত ছিলেন।
 
রুদ্র বেঁচে থাকলে মিলনকে নিয়ে কিছু লিখতেন?
 
 
আচ্ছা, বাদ দেই। রুদ্র মৃত, তিনি কী করতেন, সে-আলাপ অবান্তর। জীবিতদের কেউ মিলনের জন্য কোনো কবিতা লিখেছেন?
 
মিলন যেই পার্টির ছাত্রসংগঠনের নেতা ছিলেন, তা কখনোই সাহিত্যচর্চার জন্য বিখ্যাত ছিলো না। তার পার্টির বাইরে যারা সাহিত্য চর্চা করেন, তারা অনেকদিন ধরেই আওয়ামি চর্চা করছেন। দুয়েকজন হয়তো সুবিধার বিনিময়ে, তবে অধিকাংশই আন্তরিকভাবেই।
 
অতএব, মিলনের জন্য কেউ কবিতা লিখবে না।
 
বাংলাদেশে বামপন্থীদের জন্য কবিতা লেখার লোক আছে।
 
এতো যে প্রতিক্রিয়াশীল জামায়াতে ইসলামী, এমনকি তাদের লোকজনের জন্যও কবিতা লেখার লোক আছে।
 
কবিতা লেখার লোক আছে শাহবাগিদের জন্য, হেফাজতিদের জন্য।
 
শুধু বিএনপিপন্থীদের জন্য কবিতা লেখার লোক নাই।
 
 
কবিতা লিখলেই মিলনের নখগুলো ফিরে আসতো না। মিলনও তাঁর কন্যার কাছে ফিরে আসতেন না। সে আমি জানি।
 
কিন্তু কার জন্য কবিতা লেখা হচ্ছে, কার জন্য হচ্ছে না, সেটা মানুষের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বুঝতে কাজে আসে। ছফা কোথাও লিখেছিলেন, রাজনীতি আর সংস্কৃতির সম্পর্কটা হচ্ছে ভাইবোনের মতো, ফলে সংস্কৃতি বুঝলে রাজনীতিও অনেকটা বোঝা যায়। বিএনপির কোনো সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা ২০১৮র বাংলাদেশে নাই, তারা এক প্রকারের অস্পৃশ্যে পরিণত হয়েছে, যাঁদেরকে ছুঁলে জাত যায়।
 
তাই বাংলাদেশের কবিরা মিলনের মৃত্যুটাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা পলিটিকালি কারেক্ট, ভুল ভিকটিমের জন্য তাঁরা কবিতা ল্যাখেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *