//ফিলিস্তিনঃ কয়েকটি কবিতা

ফিলিস্তিনঃ কয়েকটি কবিতা

আলোকচিত্র সালেম সৌদি, তাঁর কন্যা লায়ান ও ভাগনি শায়মার সাথে, গাজায় তাঁদের বাড়ির ধবংসস্তূপে। ২০১৫র জুনে ছবিটি তুলেছেন এমাদ সামির নাসার। এটি নিকট প্রাচ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি।
 নির্বাসন / সালেম জুবরান

সূর্যটা সীমান্ত পেরোয়
অস্ত্রগুলো নিরব থাকে
তুলকারেমে
একটি ভরতপক্ষী শুরু করে প্রভাতসংগীত
আর উড়ে যায় অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে
কিব্বুজের* পাখিদের সাথে
একটি একাকী গাধা পায়চারি করে
সমস্ত ফায়ারিং লাইন জুড়ে
যাকে আমলেই নেয়নি পর্যবেক্ষক দল
কিন্তু আমার জন্য, তোমার উৎখাত-হওয়া সন্তানের জন্য, হে জন্মভূমি
তোমার অনেক আকাশ আর আমার একজোড়া চোখের ভেতরে
প্রসারিত হয়ে আছে একটা সীমান্ত প্রাচীর
যা দৃশ্যগুলোকে অন্ধ করে দেয়…

* কিব্বুজ = হিব্রু শব্দ, এটি দ্বারা ইজরায়েলের এক ধরণের সম্প্রদায়গত জীবনযাপনে অভ্যস্থ গোষ্ঠীকে বোঝায়, প্রায়শই কৃষিখামারকে কেন্দ্র করে।

কবিপরিচিতিঃ ইজরায়েলি আরব কবি ও সাংবাদিক সালেম জুবরান ২০১১য় ৭১ বছর বয়সে নাজারেথে নিজ বাড়িতে মারা যান। তাঁকে নিজ শহরে চির বিশ্রামের জন্য কবর দেয়া হয়। ১৯৪১এ জন্মগ্রহণকারী জুবরান তিনটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন, যার শেষটি প্রকাশিত হয় প্রায় ৩০ বছর আগে। কবি মারওয়ান মাখৌল জুবরানের কবিতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, “ইজরাইলি আরব কবিদের মধ্যে তিনি অবশ্যই শ্রেষ্ঠতম।” পরবর্তীকালে জুবরান সাংবাদিকতা, রাজনীতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লেবাননের সংবাদপত্র আল-নাহার ছাড়াও তাঁর লেখা হারেথজ, ইয়েদোথ আহরোনাথ ও ম্যারিভ পত্রিকায়সমূহে প্রকাশিত হয়। জুবরান দীর্ঘদিন ইজরাইলের আরবি ভাষার কমিউনিস্ট পত্রিকা দৈনিক আল-ইত্তিহাদ এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পত্রিকা আল-জাদিদের সম্পাদক ছিলেন। অনেক বছর পর্যন্ত তিনি ইজরায়েলি কমিউনিস্ট পার্টিতে সক্রিয় ছিলেন, পরে যা হাদাস পার্টিতে যুক্ত হয়।

অসম্ভব / তৌফিক জায়াদ

এটা তো তোমার জন্য খুবই সহজ
একটি সূচের ভেতরে আস্ত হাতি ঢুকিয়ে দেয়া,
ছায়াপথে ভাজা মাছ ধরা,
সূর্যটাকে এক ফুঁয়ে নিভিয়ে দেয়া,
বাতাসকে কারারুদ্ধ করা,
অথবা কুমীরকে দিয়ে কথা বলানো,
একটি বিশ্বাসের চকচকে দ্যুতিকে
নিপীড়নের মাধ্যমে ধবংস করার চেয়ে
অথবা আমাদের মিছিলটাকে পণ্ড করার চেয়ে
যা এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্যের দিকে
এক পা এক পা করে…

কবিপরিচিতিঃ তৌফিক জায়াদ ১৯২৯এ নাজারেথের গালিলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফিরে আসেন এবং ১৯৭৩এর ৯ ডিসেম্বর ফিলিস্তিনের ৪৮ রাখা নামের একটি কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান থাকা অবস্থায় তিনি নাজারেথের মেয়র নির্বাচিত হন। সেই জয়কে বলা হয়েছিলো ইজরাইলের জন্য হুমকস্বরূপ। এরপর থেকে তিনি ফিলিস্তিনের ভেতরে এবং দখলীকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলিতে আরব নীতি পরিবর্তন করার জন্য ইজরায়েলি সরকারকে চাপ দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সভাপতি ইয়াসির আরাফাতের প্রস্তাবে নির্বাসন শেষে জেরিকো থেকে নাজারাথে ফিরে যাওয়ার পর জর্দানের উপত্যকায় একটি মুখোমুখি সংঘর্ষে জায়াদ ৫ জুলাই ১৯৯৪ সালে মারা যান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর সময় তিনি ছিলেন নাজারেথের মেয়র, নেসেটের সদস্য এবং “একজন নেতৃস্থানীয় আরব বিদ্রোহী”। তাঁর সম্মানে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়।

শ্বাশ্বতজীবিত / ফাদওয়া তুকান

আমার প্রিয় জন্মভূমি
স্বৈরতন্ত্রের এই জঙ্গলে
যতই ওরা জাঁতায় পিষুক তোমাকে
অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় আর দুঃখে,
কখনোই সফল হবে না তারা
তোমার চোখগুলো উপড়ে ফেলতে
অথবা তোমার আশা আর স্বপ্নগুলোকে মেরে ফেলতে
অথবা তোমার জেগে ওঠার ইচ্ছাকে ক্রুশবিদ্ধ করতে
অথবা আমাদের সন্তানদের মুখ থেকে হাসি কেড়ে নিতে
অথবা ধবংস আর অগ্নিসংযোগ করতে,
কেন না আমাদের গভীর সব কষ্ট থেকেই
আমাদের ঝরানো রক্তের শীতলতা থেকেই
জীবন আর মৃত্যুর স্পন্দন থেকেই
তোমার ভেতরে প্রাণ আবার নতুন করে জন্মাবে…

কবিপরিচিতিঃ বিশেষ করে ইসরাইলের দখলদারিত্বের অধীনে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের কাছে তুকানের কবিতা অধিক সমাদৃত। নাবলুসে বহু ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য সুপরিচিত এক স্বচ্ছল ফিলিস্তিনি পরিবারে কবির জন্ম ১৯১৭য়। অসুস্থতার কারণে ১৩ বছর বয়সে বিদ্যায়তনিক পাঠে বিরতি টানতে হয় তাকে। তাঁর ভাইদের একজন, ইব্রাহীম তুকান, তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ঘটনাক্রমে তুকান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি এবং সাহিত্য অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। ফাদওয়া তুকানের বড় ভাই আহমদ তুকান জর্দানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তুকান সবমিলিয়ে আটটি কবিতার বই প্রকাশ করেন, যা অনুদিত হয় বহু ভাষায়, এবং আরববিশ্বে লাভ করে অশেষ জনপ্রিয়তা। তাঁর বই এ্যালোন উইথ দ্য ডেইজ পুরুষাধিপত্যশীল আরব বিশ্বে নারীদের কষ্টভোগের উপ পাঠকের দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। ১২ ডিসেম্বর ২০০৩ তারিখে তুকানের মৃত্যু হয়, যখন তাঁর নিজ শহর নাবলুস ছিলো অবরুদ্ধ।

শালোম / সামিহ আল-কাসেম

অন্য কাউকে গান গাইতে দাও শান্তির প্রসঙ্গে,
বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব, আর ভারসাম্যের গান।
অন্য কাউকে গান গাইতে দাও কাকেদের ব্যাপারে
একজন যে চিৎকার করে চলবে আমার পঙক্তিগুলোর ব্যর্থ হয়ে যাওয়া নিয়ে
কৈতর মিনারের ধবংসাবশেষে শিকার খুঁজে চলা অন্ধকার পেঁচাটির প্রতি।
অন্য কাউকে গান গাইতে দাও শান্তির প্রসঙ্গে
যখন ক্ষেতের ফসল করুণ স্বরে ডাকে,
ব্যাকুল হয়ে কিষাণের গানের প্রতিধবনি তরে।
অন্য কাউকে গান গাইতে দাও শান্তির প্রসঙ্গে।
যখন ওখানে, কাঁটাতারের পেছনে
অন্ধকারের হৃদয়ে,
তাঁবুর শহরগুলো ভয়ে গুটিসুটি মেরে থাকে।
তাদের বাসিন্দাগণ,
বিষণ্ণতা আর আক্রোশের বসতিগুলো
আর স্মৃতির টিউবারকিউলোসিস।
আর যখন ওখানে, জীবনকে ছেঁটে ফেলা হয়,
আমাদের জনগণের,
আমাদের শিশুদের, যারা জীবনের কোনো ক্ষতিই করেনি!
আর তখন, এখানে;
অনেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে… এতো উপচে পড়া ঐশ্বর্যে!
তাদের পিতৃগণ তাদের জন্য এতো ঐশ্বর্য রেখে গেছে
আর, হায়, অন্যদের জন্যও!
এই উত্তরাধিকার— বছরগুলোর দুঃখ— এখন তাদের সম্পত্তি!
অতএব ক্ষুধার্তদেরকে তাদের উচ্ছিষ্ট খেতে দাও
আর ইয়াতিমদেরকে খেতে দাও— আক্রোশের ভোজসভায় যা কিছু বাকি থাকে— তা থেকে।
অন্য কাউকে গান গাইতে দাও শান্তির প্রসঙ্গে।
কারণ আমার দেশে, এর সমতলে আর পাহাড়ে
শান্তিকে জবাই করা হয়েছে।

* শালোম = হিব্রু শব্দ, আরবি সালামের সমার্থক, অর্থ শান্তি।

কবিপরিচিতিঃ সামিহ আল-কাসেম জর্দানের জারগা নামক উত্তরের এক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সেটা ছিলো ১৯৩৯। ঐ সময়ে তাঁর পিতা রাজা আবদুল্লাহর আরব সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন। ১৯৮৪ পর্যন্ত আল-কাসেম ছয়টি কবিতার বই প্রকাশ করেন। সাধারণত তাঁর কবিতা খুব সংক্ষিপ্ত, এমনকি, কিছু কবিতা দুই স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ১৯৬৮তে তাঁর প্রথম কবিতার বই ওয়েটিং ফর দ্য থাণ্ডারবার্ড প্রকাশিত হয়। তিনি একবার সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, নাসারিজমের প্যান-আরব ভাবাদর্শ ৫০-এর দশকে তাকে প্রভাবিত করেছিলো। ১৯৬৭তে তিনি ইজরাইলি কম্যুনিস্ট পার্টি হাদাসায় যোগ দেন। এবং কিছুদিন জেল খাটেন যা তাঁর চিন্তায় পরিবর্তন আনে। আল-কাশিম ১৯৯৭ এবং ২০০০এ মোট দুইবার সিরিয়া পরিদর্শনে যান। ১৯ অগাস্ট ২০১৪ আল-কাসিম প্রায় ৭৫ বছর বয়সে বহু বছর ধরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পর মৃত্যুবরণ করেন।

ভূমিকেই বেছে নিতে দাও / ফারাহ সারাফা

তোমার কী মনে হয়, পবিত্র ভূমি কাকে বেছে নেবেঃ
ফিলিস্তিন নাকি ইজরায়েল?

তুমি কি আসলেই আশা করো তিন ধর্মের জন্মভূমি
কখনো শান্তির স্থান হবে?

মানে– জেসাস তো সন্ত ছিলেন
স্বর্ণবণিকদের দ্বারা অত্যাচারিত, ক্রুশবিদ্ধ হলেন।

আমরা কি উদযাপন করি পাইলেতের অভিশপ্ত বিজয়
নাকি এক সন্তের উৎসর্গ, সে নায়ক

যিনি সশরীরে উঠে এসেছেন মৃত্যু থেকে?
যার পুনরুত্থান চিহ্নিত হয়ে আছে ইশতারের পর্বে,

পুনরুৎপাদন। অলৌকিক ঘটনা ঘটে যেতে
আধুনিকতা লাগে নাকি ট্র্যাডিশন?

রাসায়নিক দ্রব্যাদি না প্রকৃতি? হৃদয় না মন?
জলপাই বৃক্ষগুলো গুড়িয়ে দিয়ে,

যার তেল বাঁচিয়ে রাখে পরিবারগুলোকে, খাবার
আর অর্থনীতি, ইজরায়েলের এখনো বাকি

একটা ভদ্রস্থ জলপাইয়ের তেল উৎপাদনের। এর রক্ত
কিভাবে যেনো জমে যায় সেই বৃক্ষ শাখাগুলোর সাথে

যেগুলো দরকার হয় একটা নতুন জলপাইকুমারী জন্ম দিতে।
পবিত্রভূমি খুব সম্ভবত বুলেট বেছে নিয়েছে,

নাইট ক্লাব, পুঁজিবাদ, আর উন্নাসিকতাও–
(মূর্খতা আর্শীবাদ)– কিন্তু শেকড়সমূহ

যে শিরা উপশিরাগুলো পাহাড়ে পৌছেঁছে
কেটে ফেলা গলাগুলো করছে না সহায়তা একটুও

এর কারণ কী? জেসাসকে জিজ্ঞেস করো, বিদ্রোহীজনকেই,
যে-লোকটা বলেছিলোঃ প্রথমে ভালোবাসতে হবে ফিলিস্তিনকেই…

কবিপরিচিতিঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত ফারাহ সারাফা কবি হিসেবেই অধিক পরিচিত। তাঁর মায়ের জন্ম ফিলিস্তিনে, আর বাবা ছিলেন একজন ইরাকি। তাই সারাফা নিজেকে জন্মগতভাবে দু’টি রাষ্ট্রেরই সৃষ্টি মনে করেন। তাঁর ভাষায় বললে, “আমি হলাম যুদ্ধের পণ্য, অতএব, আমেরিকান হস্তক্ষেপ নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত।” সম্প্রতি তিনি তুলনামূলক সাহিত্য ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি লাভ করেছেন।

গাজার হতচ্ছাড়া শিশুরা / খালেদ জুমা

ওহ গাজার হতচ্ছাড়া শিশুরা,
যারা আমার জানলার নিচে এসে
নিরন্তরভাবে চিৎকার করে জ্বালাতে আমাকে,
যারা হৈহল্লা আর ছুটোছুটিতে ভরে তুলতে একেকটি সকাল,
যারা আমার ফুলদানি ভেঙেছিলে
আর চুরি করেছিলে আমার ব্যালকনির
নিঃসঙ্গ ফুলটিকে,
ফিরে এসো–
আর যতো খুশী চিৎকার করো,
আর সব ফুলদানি ভেঙে ফ্যালো,
আর সব ফুল চুরি করে নিয়ে যাও,
ফিরে এসো,
শুধু ফিরে এসো…*

* ইজরায়েল সেনাবাহিনী ২০১৪য় গাজায় ৫০ দিনে ৫০৯টি শিশুকে হত্যা করেছিলো, তাঁদের রক্তাক্ত স্মৃতিতে, লেখা হয় এই কবিতা।

কবিপরিচিতিঃ খালেদ জুমা ২৫ অক্টোবর ১৯৬৫তে রাফায় জন্মগ্রহণ করেন। গাজার সীমান্তবর্তী আ- শাবৌরো শরণার্থী শিবিরে জুমার শৈশবকৈশোর কাটে। বর্তমানে তিনি প্যালেস্টাইন নিউজ এবং ইনফরমেশন এজেন্সি (ওয়াফা)-এর সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান। এর আগে সাত বছর যাবৎ রয়া ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এ পর্যন্ত তাঁর নয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি মঞ্চনাটক রচনা করেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি ধ্রুপদী আরবি ও ফিলিস্তিনি আরবি উভয় ভাষাতে শতাধিক গান লিখেছেন। ফিলিস্তিনিদের জীবন, ইতিহাস ও যুদ্ধ সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিবন্ধও তিনি প্রকাশ করেছেন। তাঁর তিনটি কবিতার বই নাথিং ওয়াকস ইন দিস ড্রিম, সো দা জিপসি উডন্ট লাভ ইউ, ও অ্যাজ হর্সেস অল্টার।

আমি আপনার সন্তান / ইজরা থিয়াব

আমি বাঁচতে চাই, ভালোবাসতে চাই
যদি দয়া করে অনুমতি দিতেন, স্যার
আমি খেলতে চাই, শিখতে চাই
আমার দিকে তাকান, আমি জানি, আপনার যায় আসে
আমার দিকে তাকান… আমিও তো আপনার মতোই মানুষ একটা
কারণ আমারও একটা হৃদয় আছে… আমি হাসি… কাঁদি
আমার দিকে তাকান স্যার, সাহস থাকলে আমার চোখের দিকে তাকান
আর আমাকে বলেন কেনো আমি মৃত্যুরই যোগ্য
আমি দাবার গুটি নই, আমি একটা শিশু
আমি কোনো সংখ্যা নই, আমি একটা শিশু
আমি পরীক্ষাগারের ইঁদুর নই, আমি একটা শিশু
আমার দিকে তাকান স্যার, আমি আপনার সন্তান

কবিপরিচিতিঃ জর্দানের নাগরিকত্ব পাওয়া ইজরা জন্মগতভাবে ফিলিস্তিনি শরণার্থী। একজন রাজনৈতিক কর্মী পিতার ঘরে তাঁর জন্ম। তিনি অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর বাবার মতোই সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন – শুধু ফিলিস্তিন নয়, সারা দুনিয়ার মানুষের জন্যই – এই দৃঢ় আশা পোষণ করেন।

কৃতজ্ঞতাস্বীকার ☭ কবিপরিচিতিগুলোর জন্য আমি কালপুরুষ-এর কাছে ঋণী।

Please follow and like us: