//অঙ্কণ বিদ্যায় একটি পাঠ / নিজার তাওফিক কাব্বানি

অঙ্কণ বিদ্যায় একটি পাঠ / নিজার তাওফিক কাব্বানি

PHOTO “Laith Majid al Amiri cries as he holds his youngest children as they arrived on the Greek island of Kos.” (Source: Daniel Etter’s Album, Exodus 2015) 

আমার ছেলে তার রঙতুলির বাকশো রাখলো আমার সামনে
আর আমাকে বললো একটা পাখি এঁকে দিতে।
আমি ধূসর রঙের মধ্যে তুলিটা ডুবিয়ে দিলাম
এবং একটা চতুর্ভুজ আঁকলাম তালা ও গারদের।

তার চোখ থেকে উপচে পড়লো বিস্ময়ঃ
“…কিন্তু এটা তো একটা জেলখানা, বাবা
তুমি জানো না কী করে পাখি আঁকতে হয়?”

আর আমি তাকে বললামঃ “বাবা, আমাকে ক্ষমা করো।
আমি ভুলে গেছি পাখিদের আকার ও আকৃতি।”

আমার ছেলে তার ড্রয়িং বুকটা রাখলো আমার সামনে
আর আমাকে বললো একটা গমের বৃন্ত আঁকতে।
আমি কলমটা ধরলাম
এবং একটা বন্দুকের ছবি আঁকলাম।

আমার ছেলে পরিহাস করলো আমার অজ্ঞতা নিয়ে,
দাবি করলো,
“বাবা, তুমি এটাও জানো না, একটা গমের বৃন্ত
আর একটা বন্দুকের মধ্যে কী ফারাক?”

আমি তাকে বললাম, “সোনামনি,
একসময় আমি জানতাম কেমন আকৃতি গমের বৃন্তের
কেমন আকৃতি পাউরুটির
কেমন আকৃতি গোলাপের।

কিন্তু এই কঠিন সময়ে
জঙ্গলের গাছেরা যোগ দিয়েছে
মিলিশিয়াদের সাথে
আর গোলাপ পড়ে নিয়েছে বিবর্ণ পরিচ্ছদ।

এই সশস্ত্র গমের বৃন্তের সময়ে
সশস্ত্র পাখির সময়ে
সশস্ত্র সংস্কৃতির সময়ে
এবং সশস্ত্র ধর্মের সময়ে
তুমি এমন কোনো পাউরুটি কিনতে পারবে না
যার ভেতরে একটা বন্দুক নেই
তুমি বাগানের একটা গোলাপ ছিঁড়তে পারবে না
যার কাঁটা বিঁধে যাবে না মুখে তোমার
তুমি একটা বই কিনতে পারবে না
যা তোমার আঙুলের মধ্যে বিস্ফোরিত হবে না।”

আমার ছেলে আমার বিছানার ধার ঘেঁষে বসলো
আর আমাকে বললো একটা কবিতা আবৃত্তি করতে
আমার চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো বালিশে।

আমার ছেলে তা জিবে ছোঁয়ালো, অবাক হয়ে, বললোঃ
“কিন্তু, এটা তো অশ্রু বাবা, কবিতা নয়!”

এবং আমি তাকে বললাম,
“যখন তুমি বড়ো হবে, সোনামনি আমার
আর আরবি কবিতার দিওয়ান পড়বে
তুমি আবিষ্কার করবে শব্দ ও অশ্রু যমজ
আর আরবি কবিতা
লেখমান আঙুল থেকে ঝরে পড়া অশ্রু বৈ কিছু নয়।”

আমার ছেলে তার কলম, ক্রেয়ন বক্স রাখলো
আমার সামনে
আর আমাকে বললো তার জন্য একটা দেশ এঁকে দিতে।
আমার হাতে তুলিটা থরথর করে কাঁপছে
আর আমি ডুবে যাচ্ছি, কান্নায়।

Please follow and like us: