//পার্পল সানসেটঃ যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানুষের ভালোবাসার গল্প

পার্পল সানসেটঃ যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানুষের ভালোবাসার গল্প

আলোকচিত্র ইন্টারনেট থেকে

ইয়াং ইচ্ছা করলে মেরে ফেলতে পারতো আকিয়োকোকে। কেটে টুকরোটুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দিতে পারতো। শোধ নিতে পারতো।

জাপানি ইম্পেরিয়াল আর্মির ফ্যাসিস্ট সৈন্যরা তার চোখের সামনে তার বৃদ্ধ মাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছে। সে যেই মিলিটারি ক্যাম্পে বন্দী ছিল, সেখানে মানুষের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার করার পর, তাদের লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয়া হত। একবার এক লোক জীবিত আছে, এটা টের পাওয়ার পর জাপানি ফ্যাসিস্ট সৈন্যরা তাঁকে জীবিত অবস্থাতেই বস্তায় ভরে বস্তাটায় আগুন ধরিয়ে দেয়, তারপর আর্তনাদ করতে থাকা লোকটার নরকযন্ত্রণা উপভোগ করতে করতে হাসতে হাসতে বস্তার সাথে ডিনামাইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়।

ইয়াং তাই জাপানি মেয়েটাকে খুন করতে পারতো, ওর কাছে একটা বেশ ধারালো ছুরি ছিল, বেশ তীক্ষ্ণ ছুরি। উল্টো করে মেয়েটার বুকে গেঁথে দিতে পারতো। বাচ্চা মেয়ে, মরতে বেশি সময় নিতো না।

কিন্তু ইয়াং মেয়েটাকে জানে মেরে ফেলে নি। ক্ষমা করে দিয়েছে। সে জানে শোধ নেয়া যায় না আসলে, প্রতিটি নতুন লাশ, পূর্বতন লাশগুলোর সাথে কিছু সংখ্যা যোগ করে।

সোভিয়েত রেড আর্মির সেকেণ্ড লেফটেন্যান্ট কমরেড নাজিয়া কোনোদিন কল্পনাও করেনি, ভাগ্য তাঁকে চীনের জঙ্গলে নিয়ে আসবে, এবং নেহাত কপাল ভালো না হলে সেই জঙ্গলেই সে অক্কা পেতো। সে কাকতালীয়ভাবে বেঁচে গেলো একটা বাঘের কারণে। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসে সে যখন পাগলের মতন চুমু খাচ্ছে ইয়াংয়ের কপালে ও গালে ছেলেটার মাথা চেপে ধরে, আকিয়োকো তখন ভাবছে বয়স্করা এতো বেহায়া কেনো!

আকিয়োকো খুন হবে, শত্রুপক্ষের ‘বিজাতীয়’ সৈন্যদের হাতে নয়, তার ‘স্বজাতির’ এক ‘দেশপ্রেমিকের’ গুলিতে। যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু মানুষের নির্বুদ্ধিতা এখনো শেষ হয় নি, তাই সে ফুলের মতন ঝরে পড়বে। ওর ভাই ছিল জাপানের ইম্পেরিয়াল নেভিতে, পরাজয় আর আত্মসমর্পণের গ্লানি মেনে নিতে না পারায় যাদের নির্দেশ দেয়া হয় স্যাক্রিফাইসাল সুইসাইডের, আত্মহত্যায় অনিচ্ছুক যাকে খুন করে তারই কমান্ডার।

পার্পল সানসেট যুদ্ধের বিরুদ্ধে মানুষের ভালোবাসার গল্প। ক্ষমা করার গল্প। যা যুদ্ধক্ষেত্রেও রিনরিন করে বেজে ওঠে, শেষ রাতে মৃত্যুর মাঝেও জীবনের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে, সেই খেলনাটির গল্প।

Please follow and like us: