//মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এবং পাহাড়ি জাতিদের সংগ্রাম

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এবং পাহাড়ি জাতিদের সংগ্রাম

আলোকচিত্র কৃতজ্ঞতা এম এন লারমা মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশন

 

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জন্ম রাঙামাটি শহরের মহাপুরমে/মাওরুমে, ১৯৩৯ ঈসায়ী সনে, যে-গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে কাপ্তাই হ্রদের জলে। তাঁর বাবা চিত্ত কিশোর চাকমা, মা সুভাষিনী দেওয়ান। ১৯৬০এ কাপ্তাই বাঁধের কারণে তাঁর জন্মভূমি পানিতে তলিয়ে গেলে তাঁর পরিবার পানছড়িতে নতুন করে বসতি স্থাপন করে।

 

তিনি ১৯৫৮তে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে মেট্রিক পাশ করেন, এরপর চট্টগ্রাম সরকারি মহাবিদ্যালয়ে আইএ ভর্তি হন। ১৯৬০এ আইএ পাশ করেন, এরপর একই প্রতিষ্ঠানে বিএ ভর্তি হন, কিন্তু ১৯৬৩র ১০ ফেব্রুয়ারি তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার তাঁকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে। দুই বছরেরও বেশি সময় কারাগারে অতিবাহিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান ১৯৬৫র ৮ মার্চ, সে-বছরই বিএ পাশ করেন। এরপর তিনি বেশ কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৮তে বিএড পাশ করেন, এবং ১৯৬৯এ এলএলবি পাশ করে একজন আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনে। ১৯৭০এ পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তরাঞ্চল থেকে আওয়ামি লিগ প্রার্থীসহ সকল প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩এও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। [১]

 

১৯৫৭তে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এর নির্মাণকাজ শুরু করে এবং পাহাড়িদের প্রবল আপত্তির মুখেই ১৯৬৩তে এর নির্মাণকাজ শেষ করে। কর্নফুলী নদীকে ঘিরে সৃষ্ট এই কৃত্রিম বাঁধের মাধ্যমে ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। পাহাড়িদের ওপর এই বাঁধের ভয়াবহ প্রভাব পড়ে।

 

“…এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেয়ার পর পাহাড়ের মানুষ নানা শঙ্কায় দিন কাটাতে শুরু করে। তখন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ডিগ্রির ছাত্র। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনুমান করতে পেরে মানবেন্দ্র লারমা বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করেন। পাহাড়ের ছাত্রসমাজ এ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রাখার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। পাকিস্তান সরকার ১৯৬২ সালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে নিবর্তনমূলক আইনে গ্রেফতার করে। পাহাড়িদের জনমতকে উপেক্ষা করে পাকিস্তান সরকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে থাকে। ১৯৬৩ সালের দিকে এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। কাপ্তাই বাঁধের কারণে ডুবে যায় পাহাড়ের সবচেয়ে উর্বর জমিগুলো। উচ্ছেদের শিকার হয় লাখো মানুষ। পাহাড়ের জনপদে নেমে আসে এক মানবিক বিপর্যয়। পানিতে তলিয়ে যায় অনেক জনপদ, নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় একটি সভ্যতা। তিল তিল করে গড়ে ওঠা পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি মানুষের জীবন জলের নিচে হারিয়ে যায়। প্রায় ৫৪ হাজার একর উর্বর ফসলি জমি বাঁধের ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদে নিমজ্জিত হয়ে যায়। রাঙ্গামাটির মূল শহরটি পানিতে ডুবে যায়। ডুবে যায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জন্মস্থান মাওরুম গ্রামটিও। পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার আলো ছড়ানো অন্যতম আলোকিত জনপদ ছিল এ মাওরুম গ্রাম। ভিটেমাটি, গবাদি পশু, ফসলি মাঠ, সাজানো জীবনের সবকিছুই পানির তলদেশে চলে যায়। সর্বস্ব হারানো নিঃস্ব মানুষ নতুন জীবনের সন্ধানে পাহাড়ের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে। কাজলং, চেঙে আর মেঅনী নদীর উপত্যকায় উদ্বাস্তু মানুষ আবার নতুন জীবনের পত্তন ঘটায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে উদ্বাস্তু মানুষের ঢল সীমান্ত পার হয়ে ভারতেও আশ্রয় নেয়। ৫০ হাজারের অধিক শরণার্থীর নতুন ঠিকানা হয় ভারতের অরণ্যসংকুল অরুণাচলে।…” [২]

 

১৯৭১এ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলম্বন করেন। [৩]

 

মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিলো যা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সাহিত্যে ঠাঁই পায় নি। না পাওয়ার কারণ, যদিও মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসের সবচে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা, তথাপি এমনকি সেই মুক্তিযুদ্ধও পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত নয়। একেবারে শেষের দিকে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের – বাঙালিদের – জন্য রীতিমতো লজ্জাজনক।

 

পাকিস্তান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটিকে প্রশাসনিক সুবিধার স্বার্থে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে তিনজন সার্কেল চিফ নিয়োগ দিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদের ভূমিকা মিশ্রঃ এর একটি সার্কেলের প্রধান ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেন, আরেকটি সার্কেলের চিফ মংশুয়ে প্রু চৌধুরি নিরপেক্ষ অবস্থান নেন, এবং তৃতীয় সার্কেলের চিফ মং প্র সাইন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কিন্তু ত্রিদিব রায় এবং বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরোর ভূমিকার কারণে এই প্রচারণাই ব্যাপকতা পায় যে পাহাড়িরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭১এর ডিসেম্বরে ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (এসএফএফ) এবং মুজিব বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘অভিযান’ চালায়। পানছড়ির পাহাড়ি গ্রামে তাদের হামলায় ৩২ জন নিহত হন, এবং অসংখ্য নারী ধর্ষিত হন। ডিসেম্বরের পরে বেসামরিক পাহাড়িদের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরণের ভয়ংকর হামলা চলতে থাকে। ১৯৭২এর ১৫ ফেব্রুয়ারি এর প্রতিক্রিয়াতেই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) গঠিত হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে গঠিত হয় দলটির সশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনী। [৪]

 

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এর নেতৃত্বে ছিলেন যে-দলের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিলো পাহাড়ের ১১টি জাতি। [৫]

 

“১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল গণপরিষদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আহবায়ক হিসেবে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ‘বাংলাদেশ খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির নিকট পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের শাসনতান্ত্রিক অধিকার দাবির আবেদনপত্র’ শীর্ষক একটি ‘আবেদনপত্র’ পেশ করেন। সেখানে বলা হয়:

“ জনগণের অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে শাসন ব্যবস্থা ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষণ করা যাবে না। এই জন্যই আমরা “চারটি বিষয়” উত্থাপন করে নিজস্ব আইন পরিষদ সম্বলিত একটি আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরেছি। সুতরাং-

ক) আমরা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সমেত পৃথক অঞ্চল হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পেতে চাই।

খ) আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের অধিকার থাকবে, এরকম শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন চাই।

গ) আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষিত হবে এমন শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন চাই।

ঘ) আমাদের জমি স্বত্ব– জুম চাষের জমি ও কর্ষণযোগ্য সমতল জমির স্বত্ব সংরক্ষিত হয় এমন শাসন ব্যবস্থা আমরা পেতে চাই।

ঙ) বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল হতে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে যেন কেহ বসতি স্থাপন করতে না পারে তজ্জন্য শাসনতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন চাই।”” [৬]

(ঙ)-তে প্রকাশ পাওয়া তাঁর আশঙ্কা যে ভুল ছিল না সেটা জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকেই পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয়।

১৯৭২এর সংবিধান কতোটা ‘গণতান্ত্রিক’ ছিলো, বা সেটা কতোটা ‘গণতান্ত্রিক’ প্রক্রিয়ায় প্রণীত হয়েছিলো, তা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়ঃ

“জনাব আ: রাজ্জাক ভুইয়া আপনার প্রস্তাব পেশ করুন।

জনাব আ: রাজ্জাক ভুইয়া: মাননীয় স্পীকার সাহেব, আমি প্রস্তাব করছি যে,

” সংবিধান-বিলের ৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদটি সন্নিবেশ করা হোক;

“৬। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে; বাংলাদেশের নাগরিক গণ বাঙালি বলিয়া পরিচিত হইবেন।”

জনাব স্পীকার: পরিষদের সন্মুখে জনাব আ: রাজ্জাক ভুইয়া প্রস্তাব এনেছেন যে,

” সংবিধান-বিলের ৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদটি সন্নিবেশ করা হোক;

“৬। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে; বাংলাদেশের নাগরিক গণ বাঙালি বলিয়া পরিচিত হইবেন।”

ড: কামাল হোসেন (আইন ও সংসদীয় বিষযাবলী এবং সংবিধান-প্রণয়ন মন্ত্রী): মাননীয় স্পীকার সাহেব, এই সংশোধনী গ্রহনযোগ্য বলে আমি মনে করি এবং এটা গ্রহণ করা যেতে পারে।

জনাব স্পীকার: শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।

শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (পি. ই. -২৯৯: পার্বত্য চট্রগ্রাম-১): মাননীয় স্পীকার সাহেব, জনাব আ: রাজ্জাক ভুইয়া সংশোধনী – প্রস্তাব এনেছেন যে, বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাঙালি’ বলে পরিচিত হবেন।

মাননীয় স্পীকার সাহেব, এব্যাপারে আমার বক্তব্য হল, সংবিধান বিলে আছে, “বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে”; এর সংগে সুস্পষ্ট করে বাংলাদেশের নাগরিকগণকে ‘বাঙালি’ বলে পরিচিত করবার জন্য জনাব অ: রাজ্জাক ভূঁইয়ার প্রস্তাবে আমার একটু আপত্তি আছে যে, বাংলাদেশের নাগরিকত্বের যে সংজ্ঞা, তাতে করে ভালভাবে বিবেচনা করে তা যথোপযুক্তভাবে গ্রহণ করা উচিৎ বলে মনে করি।

আমি যে অঞ্চল থেকে এসেছি, সেই পার্বত্য চট্রগ্রামের অধিবাসীরা যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে বাস করে আসছে। বাংলাদেশের বাংলা ভাষা বাঙালিদের সংগে আমরা লেখাপড়া শিখে আসছি। বাংলাদেশের সংগে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সবদিক দিয়েই আমরা একসংগে একযোগে বসবাস করে আসছি। কিন্তু আমি একজন চাকমা। আমার বাপ, দাদা চৌদ্দ পুরুষ– কেউ বলে নাই, আমি বাঙালি।

আমার সদস্য-সদস্যা ভাই বোনদের কাছে আমার আবেদন, আমি জানি না, আজ আমাদের এই সংবিধানে আমাদেরকে কেন বাঙালি বলে পরিচিত করতে চায়…

জনাব স্পীকার: আপনি কি বাঙালি হতে চান না?

শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা: মাননীয় স্পীকার সাহেব, আমাদিগকে বাঙালি জাতি বলে কখনও বলা হয় নাই। আমরা কোন দিনই নিজেদেরকে বাঙালি বলে মনে করি নাই। আজ যদি এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধানের জন্য এই সংশোধনী পাশ হয়ে যায়, তাহলে আমাদের এই চাকমা জাতির অস্তিত্ব লোপ পেয়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা আমাদেরকে বাংলাদেশী বলে মনে করি। কিন্তু বাঙালি বলে নয়।

জনাব স্পীকার: আপনি বসুন। Please resume your seat.

শ্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত: মাননীয় স্পীকার সাহেব, এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য হল, জনাব অ: রাজ্জাক ভুইয়া সাহেব যে সংশোধনী এনেছেন, তাতে মনে এ প্রশ্ন জাগে যে বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়া ভারতের কেউ বাস করেছে। আমি শুধু বলতে চাই যে, বাঙালি বলতে এইটুকু বোঝায় যে, যারা বাংলা ভাষা বলে তাদেরকে আমরা বাঙালি বলি।

জনাব স্পীকার: Please resume your seat. . আপনি বসুন, আপনি বসুন। এখন পরিষদের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে..

(কণ্ঠধ্বনিতে সংশোধনীটি পাশ হয়ে যায়)

শ্রীমানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (পি. ই. -২৯৯: পার্বত্য চট্রগ্রাম-১): মাননীয় স্পীকার আমাদের অধিকার সম্পূর্ণরূপে খর্ব করে এই ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধিত আকারে গৃহীত হল। আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রতিবাদস্বরূপ আমি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিষদের বৈঠক বর্জন করছি।

[অতঃপর মাননীয় সদস্য পরিষদ কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।]””

অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নবগঠিত রাষ্ট্রটি যে শুধুই বাঙালিদের জন্য, বাঙালিভিন্ন অপরাপর জাতিদের জন্য নয়, ১৯৭২এই মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে অত্যন্ত তিক্তভাবে সেটা বুঝিয়ে দেন নতুন রাষ্ট্রের শাসকরা।

“১৯৭২ সালের খসড়া সংবিধান রচনার কালেও উপেন্দ্র লাল চাকমা, এম এন লারমাসহ পাহাড়ি নেতারা সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি সংবলিত একটি প্রস্তাবনা নিয়ে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবনাটি তীব্রভাবে নাকচ করেন। তিনি প্রতিনিধিদলকে সৌজন্যবশত বসতেও বলেন নি। উপরন্তু তাঁদের মুখের ওপর ফাইল ছুঁড়ে মেরেছিলেন। … শুধু তাই নয়, ১৯৭৪ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব রাঙামাটির জনসভায় পাহাড়িদের বাঙালি হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “তোমরা সবাই বাঙালি হইয়া যাও। আমি তোমাদের উপজাতি থেকে জাতিতে প্রমোশন দিলাম।” [৮]

তবে, পাহাড়িদের জন্য আরো বিপদ অপেক্ষা করছিলো।

“…আটের দশকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান আর এরশাদের আমলে সামরিকায়ন ও উগ্র জাতীয়তাবাদী বাঙালিকরণের ধারাবাহিকতায় দেশের এক-দশমাংশ পাহাড়ে গড়ে ওঠে ছয়-ছয়টি সেনানিবাস, প্রায় সাড়ে ৫০০ অস্থায়ী সেনা ছাউনি। বিডিআর (এখন বিজিবি), র‍্যাব, পুলিশ, আনসার, বনরক্ষীদের শত শত নিবাস ও ছাউনির কথা না হয় বাদই দেয়া গেল। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, শান্তিবাহিনীর বিদ্রোহ দমনের সময় ১৯৭৯ থেকে শুরু করে ১৯৮২ সালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ৮৮টি গ্রামে ৩১ হাজার ৬২০টি বাঙালি পরিবারের এক লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭জনকে অভিবাসিত করা হয় (সেটেলার)। এ ছাড়া ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সালের দিকেও সমতল থেকে কয়েক হাজার বাঙালিকে সরকারি উদ্যোগে পাহাড়ে দেয়া হয় অভিবাসন। ১৯৮৬ সালের দিকে সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের দেওয়া হয় খাস জমি হিসেবে পাহাড় ও টিলা। সমতলের ভূমিহীন ও নদীভাঙনের শিকার হত দরিদ্র এই বাঙালিদের খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পাহাড়ে।” [৯]

১৯৭৭এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে শান্তিবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়, যার অবসান ঘটে ১৯৯৭এ শেখ হাসিনার শাসনামলে পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে। এই সংঘাতে বাংলাদেশপক্ষে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দাবি মতে ৪৪ জন এবং শান্তিবাহিনীর দাবি মতে ৫০০ জন। এই সংঘাতে পাহাড়িপক্ষে নিহত হন ৫৭০০ জন, আহত হন ১৫৪৩২ জন, ধৃত বা গ্রেপ্তারকৃত হন ১১৮৯২ জন। [১০]

এই সময়কালে পাহাড়ে ১৩টি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।

এগুলো হচ্ছে যথাক্রমেঃ

১. কাউখালী গণহত্যা, ২৫ মার্চ ১৯৮০
২. বানরাইবাড়ি-বেলতলি-বরইছড়ি গণহত্যা, ২৬ জুন ১৯৮১
৩. তালাফাঙ-আচালঙ-গুরাঙ্গাপাড়া-তবলছড়ি-বড়নালা গণহত্যা, ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮১
৪. গোলকপতিমাছড়া-মাইচ্যাছড়া-তারাবানছড়া গণহত্যা, জুন-আগস্ট ১৯৮৩
৫. ভূষণছড়া গণহত্যা, ৩১ মে ১৯৮৪
৬. পানছড়ি গণহত্যা, ১ মে ১৯৮৬
৭. মাটিরাঙা গণহত্যা, মে ১৯৮৬
৮. কুমিল্লাটিলা-তাইন্দং গণহত্যা, ১৮-১৯ মে ১৯৮৬
৯. হিরাচর-সর্বতলি-খাগড়াছড়ি-পাবলখালি গণহত্যা, ৮-১০ আগস্ট ১৯৮৮
১০. লংগদু গণহত্যা, ৪ মে ১৯৮৯
১১. মাইল্যা গণহত্যা, ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২
১২. লোগাং গণহত্যা, ১০ এপ্রিল ১৯৯২
১৩. নান্যারচর গণহত্যা, ১৭ নভেম্বর ১৯৯৩ [১১]

ভিন্ন একটি সূত্রে এসেছে এগারোটি গণহত্যার কথা। [১২]

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সাহিত্যে এইসব গণহত্যা অনুপস্থিত।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির পরেও পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় নি এবং শান্তিচুক্তির পক্ষে বিপক্ষে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সংগ্রাম ভাগ হয়ে গেছে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে, পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে। আবার জেএসএসও দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে, সন্তু লারমার নেতৃত্বে ‘মূল’ জেএসএস, এবং সংস্কারপন্থী জেএসএস বা জেএসএস-এম এন লারমা।

বিএনপি পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে লংমার্চ করেছিলো। যোগ দিয়েছিলো জামায়াতও। অপরদিকে তৎকালীন আওয়ামি লিগ সরকার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু ছোটোখাটো পদক্ষেপ নিলেও ‘স্পর্শকাতর’ ইস্যুগুলোতে হাত দেয় নি। [১৩]

১৯৯৬এর ১১ জুন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নিজগৃহ থেকে অপহৃত হন। তাঁর পরিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। আজ অবধি এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনো বিচার হয় নি। [১৪]

পাহাড়ি নারীরা বিশেষভাবেই লৈঙ্গিক সহিংসতার শিকার হন। শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার বহুবছর পরও নারীদের জন্য পরিস্থিতির কোনো উন্নতিই ঘটে নি। শুধুমাত্র ২০১৪তেই ১১৭ জন পাহাড়ি নারী যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন, যাদের ৫৭% কন্যাশিশু। এদের মধ্যে ২২ জন ধর্ষণ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ৭ জনকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদিত ধর্ষণ, বাস্তবে ধর্ষণসংখ্যা আরো বেশি। পুলিশ সাধারণত ধর্ষণের প্রতিবেদন জমা দেয় না, চিকিৎসকদেরকেও চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়। তাই পাহাড়ি আইনজীবী সামারি চাকমা যখন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ধর্ষকদের স্বর্গ, তখন তিনি একেবারেই বাড়িয়ে বলেন না। [১৫]

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার মৃত্যু হয় অত্যন্ত করুণভাবে। তাঁর গঠিত শান্তিবাহিনী খুব দ্রুত বিভক্ত হয়, তিনি চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত লাভ করেন, আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রীতি কুমার চাকমা ভারতপন্থী হিসেবে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৮৩র ১০ নভেম্বর এই মহান নেতাকে শান্তিবাহিনীর প্রীতিপন্থী গ্রুপের সদস্যরা হামলা চালিয়ে হত্যা করে। [১৬]

জাতিসমস্যায় মার্কসবাদ গ্রন্থে গবেষক সুপ্রকাশ রায় বলেছেন,

“…স্বাধীনভাবে নিজ ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রত্যেক জাতির সহজাত ও মৌলিক অধিকার। কোন ব্যক্তির যেমন অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করিয়া নিজ জীবন গড়িয়া তুলিবার পূর্ণ অধিকার আছে, তেমনি একটি জাতিরও ঠিক সেই অধিকার আছে। এইভাবে জাতীয় জীবন গঠনের ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজন মনে করিলে প্রত্যেকটি জাতি অন্য জাতি হইতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হইয়া থাকিতে পারে। ইহা প্রত্যেকটি জাতির মৌলিক অধিকার, শ্বাশ্বত মানবিক অধিকার। একটি জাতি যখন অন্য জাতির শোষণ-পীড়ণের শিকার হইয়া দাঁড়ায় তখনই ঐ জাতি উৎপীড়ক জাতির কবল হইতে মুক্তিলাভের জন্য সংগ্রাম আরম্ভ করে এবং সংগ্রামে সাফল্য লাভ করিয়া স্বেচ্ছায় বিচ্ছিন্ন হইয়া যায়। ইহাই আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই সংগ্রাম সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত, এই বিচ্ছিন্নতাও সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত।…” [১৭]

১৯৭১এ বাঙালিরা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন পাকিস্তানের শোষণ-পীড়ণের হাত থেকে মুক্ত হতে, মূলত এই আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের জন্যই। আজকে পাহাড়িরাও যদি বাংলাদেশের শোষণ-পীড়ণের শিকার হন, তাহলে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের জন্য তাঁদের বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার আছে কিনা, সে-বিচার আমি পাঠকের সুবিবেচনার ওপর ছেড়ে দিলাম। গতকাল ছিল পাহাড়ি জাতিদের মুক্তিদূত মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা।

তথ্যসূত্র
[১] হিমাদ্রী উদয়ন চাকমা, ‘মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জীবন ও সংগ্রাম’, এম এন লারমা মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশন। ১ আগস্ট ২০১৬। https://mnlarmafoundationblog.wordpress.com/2016/08/01/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A3-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0/, অ্যাকসেসড করা হয়েছে ১০ নভেম্বর ২০১৭।

[২] দীপায়ন খীসা, ‘কাপ্তাই হ্রদ পাহাড়ি মানুষের অশ্রুজল’, বণিকবার্তা। ২৯ জুন ২০১৫। http://bonikbarta.net/bangla/news/2015-06-29/41354/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A6-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A6%B2–/, অ্যাকসেসড করা হয়েছে ১০ নভেম্বর ২০১৭য়।

[৩] সোহরাব হাসান, ‘এম এন লারমার সংগ্রাম’, প্রথম আলো। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। http://www.prothom-alo.com/opinion/article/976531/%E0%A6%8F%E0%A6%AE-%E0%A6%8F%E0%A6%A8-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE, অ্যাকসেসড হয়েছে ১০ নভেম্বর ২০১৭।

[৪] আলতাফ পারভেজ, মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনীঃ ইতিহাসের পুনর্পাঠ, ঢাকা, ঐতিহ্যঃ২০১৫, পৃষ্ঠা ১২০

[৫] সোহরাব হাসান, ঐ।

[৬] ফিরোজ আহমেদ, ‘গণপরিষদে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা‘, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে ২০১৫ সালের মাওরুম পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত।

[৭] বাংলাদেশ গণপরিষদ বিতর্ক, খণ্ড ২ সংখ্যা ১৩, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৭২

[৮] বিপ্লব রহমান, পাহাড়ে বিপন্ন জনপদ, ঢাকা, সংহতিঃ২০১৫, পৃষ্ঠা ২২-২৩। উদ্ধৃতির প্রথমাংশের লেখকপ্রদত্ত রেফারেন্স ১৯৯১ প্রকাশিত সিএইচটি কমিশনের রিপোর্ট জীবন আমাদের নয়। শেষাংশের লেখকপ্রদত্ত রেফারেন্স ১৯৭৪এর বিভিন্ন সংবাদপত্র।

[৯] ঐ, পৃষ্ঠা ৬৫-৬৬

[১০] উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, যেহেতু এ-প্রসঙ্গে আমি আর কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস পাই নি। https://en.wikipedia.org/wiki/Chittagong_Hill_Tracts_conflict। শান্তি চুক্তির ফুল টেক্সট পেয়ে যাবেন এখানেঃ https://peacemaker.un.org/node/1449।

[১১] বিপ্লব রহমান, ঐ, পৃষ্ঠা ১৫৪-১৬৩

[১২] Bhumitra Chakma, “Structural Roots of Violence in CHT” in Between Ashes and Hope : Chittagong Hill Tracts in the Blind Spot of Bangladesh Nationalism, Naeem Mohaiemen (ed.), Dhaka, Drishtipat Writers’ Collective: 2010, p. 109

[১৩] Naeem Mohaiemen, “Connecting Visible Dots (1997-2010)” in Between in Between Ashes and Hope : Chittagong Hill Tracts in the Blind Spot of Bangladesh Nationalism, Naeem Mohaiemen (ed.), Dhaka, Drishtipat Writers’ Collective: 2010, p. 31

[১৪] Kalpana Chakma : 20 years gone, case yet to be solved, Daily Star. 17 October 2016. http://www.thedailystar.net/backpage/kalpana-chakma-20-years-gone-case-yet-be-solved-1299616 Accessed on 11 November 2017. কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন, বাংলা ট্রিবিউন। ১১ নভেম্বর ২০১৭। http://www.banglatribune.com/national/news/148687/%E0%A6%86%E0%A6%9A%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A6%A3-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BE, অ্যাকসেসড করা হয়েছে ১১ নভেম্বর ২০১৭য়।

[১৫] Robert Meganson, ‘Hidden Bangladesh : Violence and Brutality in the Chittagong Hill Tracts’, Amnesty International, 21 August 2015. https://www.amnesty.org.uk/groups/wirksworth-and-district/hidden-bangladesh-violence-and-brutality-chittagong-hill-tracts, Accessed on 11 November 2017.

[১৬] বিপ্লব রহমান, ‘গেরিলা নেতা এমএন লারমা’, মুক্তমনা। ১৮ মে ২০১০। https://blog.mukto-mona.com/2010/05/18/7209/, অ্যাকসেসড করা হয়েছে ১১ নভেম্বর ২০১৭য়।

[১৭] সুপ্রকাশ রায়, জাতিসমস্যায় মার্কসবাদ, কলকাতা, র‍্যাডিকালঃ ২০১৫ [১৯৬৯], পৃষ্ঠা ৪৫

Please follow and like us: