//লাল অক্টোবরের শতবর্ষেঃ বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধের টাইমলাইন

লাল অক্টোবরের শতবর্ষেঃ বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধের টাইমলাইন

Photo Getty Images

নোটঃ আজকে অক্টোবর বিপ্লবের ঠিক ১০০ বছর হল, সন্দেহাতীতভাবেই এই মুহূর্তটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অক্টোবর বিপ্লব বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এবং এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। আঠারো শতকে ইয়েমেলিয়ান পুগাচেভের নেতৃত্বে ব্যর্থ কৃষক বিদ্রোহ রুশ স্বৈরতন্ত্রে যে-আঘাত হেনেছিলো তাই বিশ শতকে পূর্ণতা পায় ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে সফল অক্টোবর বিপ্লবে। বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধ নিয়ে লেখা হয়েছে লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠা, যা একক ব্যক্তির পক্ষে পড়ে ওঠা সম্ভব নয়। এই লেখাটি তৈরি করা হলো রিডারদেরকে একেবারে সাধারণ একটি ধারণা প্রদান করার জন্য। লিয়ন ট্রটস্কির তিন খন্ডে সমাপ্ত রুশ বিপ্লবের ইতিহাসের ক্রনোলজিকাল টেবিল, ব্রিটিশ লাইব্রেরির ওয়েবসাইট, এবং ইমারসন কেন্টের ওয়েবসাইট থেকে অনুবাদ করে লেখাটি সাজিয়েছি; আর বিপ্লবের প্রাক-ইতিহাসের তথ্যাবলী নিয়েছি ২০১৭য় প্রকাশিত চায়না মিয়েভিলের অক্টোবর থেকে।

।। প্রাক-ইতিহাস ।।

১৬১৩

অর্থোডক্স চার্চ প্রথম মিখাইলকে জার বানালো, এর মাধ্যমে, রোমানভ রাজতন্ত্রের যাত্রা শুরু হল।

১৭১২

জার পিটার দি গ্রেট সেইন্ট পিটার্সবুর্গকে রাশিয়ার রাজধানি করেন, রুশ বিপ্লবের ইতিহাস, এক অর্থে এ-শহরের রাস্তাগুলোর ইতিহাস।

১৭৭৪

ইয়েমেলিয়ান পুগাচেভের নেতৃত্বে কসাক ও কৃষকদের বিদ্রোহ। এটি ব্যর্থ হয়, কিন্তু, ছাপ রেখে যায়। আলেক্সান্দার পুশকিনের ক্যাপ্টেনের মেয়ে এর পটভূমিতে লেখা।

১৮২৫

ডিসেম্বর – উদারনৈতিক অফিসারদের নেতৃত্বে জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে দেকাব্রিস্ট (ডিসেম্বরিস্ট) উত্থান।

১৮৪৮

কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস’এর সাম্যবাদী ইশতেহার প্রকাশিত – বিপ্লবী সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদের প্রতিষ্ঠা।

১৮৫৩-৫৫

ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ক্রিমিয়া যুদ্ধ।

১৮৬১

ফেব্রুয়ারি ১৯ – জার দ্বিতীয় আলেক্সান্দার মুক্তির ফরমান ঘোষণা করলেন। ভূমিদাসপ্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত। যদিও চলমান শ্রম বাধ্যবাধকতার কারণে কৃষকরা জমির সাথে আবদ্ধ রয়েই গেলো।

১৮৬৪

মার্ক্স ও অন্যান্যদের নেতৃত্বে “আন্তর্জাতিক”এর (সমাজতন্ত্রী শ্রমিকদের প্রথম আন্তর্জাতিক সংগঠন) প্রতিষ্ঠা।

১৮৭১

প্যারি কমিউন।

১৮৭৮

তরুণ সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবী ভেরা জাসুলিচ সেইন্ট পিটার্সবুর্গ পুলিশের প্রধান ফিওদর ত্রেপভকে আততায়িত করার চেষ্টা করলেন। ব্যর্থ হলেন, কিন্তু বিস্ময়করভাবে, বেকসুর খালাস পেলেন। পালিয়ে গেলেন সুইজারল্যাণ্ডে।

১৮৭৯

নারদনোয়া ভোলিয়া বা জনগণের ইচ্ছা দলের জন্ম, এরা সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রকে উৎখাত করা সম্ভব, এমনটা মনে করতেন।

১৮৮০

ফেব্রুয়ারি ৫ – জার দ্বিতীয় আলেক্সান্দারকে আততায়িত করার পঞ্চম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেলো। তার প্রাসাদের ডাইনিং রুম উড়িয়ে দেয়ায় মারা গেলো ১১ জন, আহত হল ৫৬ জন। জার দেরী করে খেতে আসায় বেঁচে যান।

১৮৮১

মার্চ ১ – জনগণের ইচ্ছা নামের একটি র‍্যাডিকাল গ্রুপের এক সদস্য-কর্তৃক জার আততায়িত হলেন। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন তার পুত্র, তৃতীয় আলেক্সান্দার। নতুন জারের নেয়া সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ নাগরিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করলো।

১৮৮২

রুশ সাম্রাজ্যজুড়ে ইহুদিবিরোধী গণহত্যা ছড়িয়ে পড়ে, বিপুল সংখ্যক ইহুদি দেশ ছেড়ে পালান। প্লেখানভের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশিত হয়, রাশিয়ায় মার্ক্সীয় সমাজতন্ত্রের পরিচিতিকরণ ঘটে, গঠিত হয় রাশিয়ার প্রথম মার্কসবাদী দলঃ শ্রমমুক্তি। ভেরা জাসুলিচ মার্কসবাদী দলটির সাথে যুক্ত হন।

১৮৮৭

নতুন জারকে খুন করার চেষ্টা ব্যর্থ হল। পাঁচজন ছাত্রনেতাকে ফাঁসি দেয়া হল। এদের একজন আলেক্সাজান্দার উলিয়ানভ, ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের বড়ো ভাই।

১৮৯১-৯২

দুর্ভিক্ষে রাশিয়ায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ লোকের মৃত্যু, আরো অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্ত হন বিভিন্নভাবে।

১৮৯৪

জার তৃতীয় আলেক্সান্দার মৃত্যুবরণ করেন আকস্মিক অসুখে, সিংহাসনে আরোহণ করেন তার পুত্র দ্বিতীয় নিকোলাস।

১৮৯৫

শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির জন্য সংগ্রাম ইউনিয়ন গঠিত। এদের একজন নেতা ইউলি সেদেরবম, ওরফে, মার্তভ। অপর নেতা তার বন্ধু ভ্লাদিমির উলিয়ানভ… লেনিন।

ডিসেম্বর ৮ – লেনিন, বলশেভিকদের ভবিষ্যৎ নেতা, গ্রেপ্তার হন। ১৩ দিনের জন্য নির্জন কারাবাস বরণ করেন। তারপর সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত।

১৮৯৮

মার্কসবাদীদের নেতৃত্বে রাশিয়ান সোশাল-ডেমোক্রেটিক ওয়ার্কার্স পার্টি গঠিত।

১৯০১

নারোদনিক বা সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবী গোষ্ঠীগুলো একীভূত হয়ে কৃষি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বাসনায় সোশালিস্ট রেভল্যুশনারি পার্টি (এস-আর) গঠিত হল। এদের অনেকেই পরে অক্টোবর বিপ্লবের বিরোধিতা করেছেন। এদের নেতা ও সামরিক শাখাপ্রধান এভনো আজেফ ছিলেন, পরে জানা যাবে, বিপ্লবীদের ভেতর স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে কাজ করা এজেন্ট।

১৯০৩

রাশিয়ান সোশাল-ডেমোক্রেটিক ওয়ার্কার্স পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেস। মতবাদিক বিতর্কে পার্টি বিভক্তঃ মেনশেভিক আর বলশেভিক। মেনশেভিকদের নেতা মার্তভ আর বলশেভিকদের নেতা লেনিন।

১৯০৪

রুশ-জাপানি যুদ্ধ শুরু, জার শাসনাধীন রাশিয়া এই যুদ্ধে ব্যাপক মার খায়, এতে স্বৈরতন্ত্রের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়।

১৯০৫

রাশিয়ায় ১৯০৫এর বিপ্লব।

রুশ শ্রমিকদের প্রথম সোভিয়েত সংগঠন গঠন।

জানুয়ারি ৯ – “রক্তাক্ত রবিবার” – ফাদার গাপোনের নেতৃত্বে যে-শ্রমিকরা জারের কাছে পিটিশন নিয়ে যাচ্ছিলেন, জারের সেনাবাহিনী গুলিবর্ষণ করে তাঁদেরকে স্তব্ধ করে দিলো। ১০০০ মানুষের মৃত্যু। উদারনৈতিক প্রেস দোষারোপ করলো জারকে।

জুন – কৃষ্ণ সাগর নৌবহরের অংশ নাবিকরা ব্যাটলশিপ পটেমকিনে বিদ্রোহ করলো। বিদ্রোহ দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটালো ওদেসায়। জারের সৈন্যরা নিষ্ঠুরভাবে দমন করলো দাঙ্গা।

অক্টোবর ১৩ – সেইন্ট পিটার্সবুর্গ টেকনোলজিকাল ইন্সটিটিউটে প্রথম সোভিয়েত গঠিত। সোভিয়েত রুশ শব্দ। এর অর্থ কাউন্সিল।

অক্টোবর ১৭ – জার নিকোলাস ঘোষণা করলেন অক্টোবর ইশতেহার, যা প্রতিশ্রুতি দিলো নাগরিক স্বাধীনতা ও নির্বাচিত সংসদের (ডুমা)। রুশ স্বৈরতন্ত্রের সামগ্রিক ক্ষমতায় যা সীমারোপ করলো। একটা ডি ফ্যাক্টো সংবিধানও ইস্যুকৃত হলো পরের বছর।

সাংবিধানিক গণতন্ত্রী পার্টি বা কাদেত গঠিত হল।

১৯০৭

জুন ৩ – ১৯০৭এর ক্যু রুশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ডুমাকে বিলুপ্ত করে দিলো। এর কিছু সদস্য গ্রেপ্তার হলেন। মৌলিক পরিবর্তন এলো রুশ নির্বাচনী আইনে।

১৯১৪

জুলাই ১৯ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। জার্মানি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো।

জুলাই ৩১ – সেইন্ট পিটার্সবুর্গের নাম পরিবর্তন করে রাখা হল পেত্রোগাদ, যাতে শুনতে কম জর্মন লাগে।

নভেম্বর ৪ – রাষ্ট্রীয় ডুমার বলশেভিক ডেপুটিদেরকে গ্রেপ্তার করে সাইবেরিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হল।

১৯১৫

এপ্রিল – দেখা দিলো রুশ বিপ্লবীদের আন্তর্জাতিকতাবাদী পত্রিকা নাশে স্লোভো। প্যারিসে। সম্পাদকীয় স্টাফে থাকলেন ট্রটস্কি।

সেপ্টেম্বর –  সুইজারল্যাণ্ডের জিমারওয়াল্ডে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হলো।

১৯১৬

মে – কিয়েনথালে সমাজতন্ত্রী আন্তর্জাতিকতাবাদীদের দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হলো।

ডিসেম্বর ১৭ – গ্রিগরি রাসপুতিন, বিতর্কিত ‘সাধুপুরুষ’ ও দ্বিতীয় নিকোলাসের পারিবারিক বন্ধু, কয়েকটি ব্যর্থ প্রয়াসের পর খুন হলেন।

।। বিপ্লব ।।

১৯১৭

জানুয়ারি ৯ – সড়ক সভা এবং মুদ্রণকারীদের ডাকা হরতালের মাধ্যমে “রক্তাক্ত রবিবারের” দ্বাদশবার্ষিকী উদযাপিত হলো।

ফেব্রুয়ারি ১৪ – রাষ্ট্রীয় ডুমা বসলো শেষবারের মতো।

ফেব্রুয়ারি ২৩ – আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের মাধ্যমে বিপ্লবের সূচনা। নারীরা রাস্তায় নেমেছিলেন খাদ্যের ও যুদ্ধ বন্ধ করার দাবিতে। দু’দিনের মধ্যেই সমগ্র পেত্রোগাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লো।

ফেব্রুয়ারি ২৪ – পেত্রোগাদ অচল করে দিলেন দুই লক্ষ শ্রমিক।

ফেব্রুয়ারি ২৫ – পেত্রোগাদে সাধারণ বিক্ষোভ। বিপ্লবীদের প্রতি নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও প্রেফতার।

ফেব্রুয়ারি ২৬ – জার রাষ্ট্রীয় ডুমা বাতিল করে দিলেন। ডেপুটিরা সিদ্ধান্ত নিলেন ছড়িয়ে পড়বেন, কিন্তু শহর ছেড়ে যাবেন না কোথাও। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক পথে নেমে এলেন।

ফেব্রুয়ারি ২৭ –  প্রহরী সৈন্যদলের বিদ্রোহ। শ্রমিক ডেপুটিদের সোভিয়েত প্রতিষ্ঠা। ডুমার প্রভিশনাল কমিটি গঠন।

ফেব্রুয়ারি ২৮ – জারের মন্ত্রীরা গ্রেপ্তার। শ্লুসেলবার্গ কারাগার পাকড়াওকরণ। ইজভেস্তিয়া-র, “সোভিয়েত সংবাদ”, প্রথম সংখ্যা বেরোলো।

মার্চ ১ –  সৈনিকদের প্রতি “অর্ডার নং ১” ইস্যু করা হল। সোভিয়েতের সৈনিক শাখা গঠন। মস্কো সোভিয়েতের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত।

মার্চ ২ – জার পদত্যাগ করলেন, সিংহাসনে বসলেন গ্র্যাণ্ড ডিউক মিখাইল। সোভিয়েতের সহায়তায় ডুমার প্রভিশনাল কমিটি গঠন করলো প্রভিশনাল সরকার। কেরেনস্কি হলেন ন্যায়বিচারমন্ত্রী।

মার্চ ৩ – গ্র্যাণ্ড ডিউক মিখাইলের পদত্যাগ। প্রভিশনাল সরকার বেতারবার্তায় বিশ্বকে জানিয়ে দিলো বিপ্লবের কথা।

মার্চ ৫ –  বলশেভিক পার্টির মুখপত্র প্রাভদার প্রথম সংখ্যা বেরোলো।

মার্চ ৬ – প্রভিশনাল সরকার রাজবন্দীদের জন্য রাজক্ষমার ঘোষণা করলো।

মার্চ ৮ – মগিলিয়েভে জার গ্রেপ্তার হলেন।

মার্চ ১৪ – কোনোপ্রকারের রাজ্যগ্রাস ও ক্ষতিপূরণ ব্যতিরেকেই শান্তি ঘোষণা করলো, “সারা দুনিয়ার জনগণের উদ্দেশ্যে”, সোভিয়েত।

মার্চ ২৩ – বিপ্লবের শহিদদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন।

মার্চ ২৯ – সোভিয়েতদের নিখিল-রুশ সম্মেলন।

এপ্রিল ৩ – লেনিন, জিনোভায়েভ, এবং অন্যান্য বলশেভিকরা সুইজারল্যাণ্ড থেকে ফিরলেন।

এপ্রিল ৪ – সর্বহারা বিপ্লবের নীতি ঘোষণা করলেন লেনিন, তাঁর এপ্রিল থিসিস –এর রূপরেখায়।

এপ্রিল ১৮ – আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রী ছুটির দিন হিসেবে পালিত হল পহেলা মে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিউকভ মিত্রপক্ষের কাছে পুরনো শর্তে যুদ্ধ জয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি নোট পাঠালেন।

এপ্রিল ২০ –  মিলিউকভের নোটের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদ প্রদর্শিত হল – “এপ্রিলের দিনগুলি”।

এপ্রিল ২৪ – বলশেভিক পার্টির নিখিল-রুশ সম্মেলন শুরু।

মে ১ –  পেত্রোগাদ সোভিয়েত কোয়ালিশন সরকারের পক্ষে ভোট দিলো।

মে ২ – মিলিউকভ পদত্যাগ করলেন।

মে ৪ ট্রটস্কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন, লেনিনের নীতিসমূহের দোসর হিসেবে। পেত্রোগাদে নিখিল-রুশ কৃষক ডেপুটিদের কংগ্রেসের উদ্বোধন হল।

মে ৫ – কেরেনস্কিকে যুদ্ধমন্ত্রী করে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হল।

মে ১৭ – ক্রনস্তাদ সোভিয়েত নিজেকে ক্রনস্তাদের একক প্রশাসনিক ক্ষমতা হিসেবে ঘোষণা করলো।

মে ২৫ – সোশালিস্ট রেভল্যুশনারি পার্টির নিখিল-রুশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত।

মে ৩০ – পেত্রোগাদে কারখানা ও দোকান কমিটিসমূহের প্রথম কংগ্রেসের উদ্বোধন।

জুন ৩ – সোভিয়েতদের প্রথম নিখিল-রুশ কংগ্রেস।

জুন ১৬ – কেরেনস্কি রুশ সেনাবাহিনীকে আক্রমণে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

জুন ১৮ – মেনশেভিক ও সোশালিস্ট রেভল্যুশনারি পার্টির আহবান করা একটি প্রতিবাদ প্রদর্শনী, দ্যাখা গেলো যে, আসলে বলশেভিকদের প্রতিবাদ প্রদর্শনী।

জুন ১৯ – নেভস্কি প্রসপেক্তে দেশপ্রেমিক প্রতিবাদ প্রদর্শনী, কেরেনস্কির ছবিহাতে।

জুলাই ৩-৫ – জুলাইয়ের দিনগুলি – আধা-বিদ্রোহ, এরপর পেত্রোগাদ থেকে বলশেভিকদের উৎখাত করার প্রয়াস।

জুলাই ৬ – কেরেনস্কির আক্রমণ ব্যর্থ হয়ে গেলো, যখন জার্মানরা দক্ষিণ ফ্রন্টের তারনোপোলে রুশ লাইনগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে ফেললো।

জুলাই ৭ – কেরেনস্কিকে প্রেসিডেন্ট করে বিপ্লব পরিত্রান সমাজতন্ত্রী সরকার গঠিত।

জুলাই ১২ – সেনাবাহিনীতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনরায় চালু করা হল।

জুলাই ১৬ – কর্নিলভ ব্রুসিলভের স্থলে সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত হলেন।

জুলাই ২৩ – ট্রটস্কি ও লুনাচারস্কি বন্দী হলেন; লেনিন লুকোলেন।

জুলাই ২৪ – কাদেতদের নিয়ে গঠিত নতুন কোয়ালিশন সরকার বিপ্লব পরিত্রাণ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলো।

জুলাই ২৬ – বলশেভিক পার্টির ষষ্ঠ কংগ্রেস; মেঝরায়নস্কির সাথে একীভূতকরণ; সেই কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত যা পার্টিকে অক্টোবর বিপ্লবের পুরোটা সময় জুড়ে নেতৃত্ব দেবে।

আগস্ট ১২ – মস্কোয় রাষ্ট্রীয় সম্মেলনের উসকানিতে মস্কোর শ্রমিকদের সাধারণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত। সম্মেলন কর্নিলভের নামে জয়ধবনি দিলো, যিনি গোপনে আগস্ট ২৭ তারিখটি নির্বাচিত করলেন প্রতিবিপ্লবী বিদ্রোহের জন্য।

আগস্ট ১৮-২১ – জার্মানরা উত্তর ফ্রন্ট ভেঙে অনুপ্রবেশ করলো, নিয়ে নিলো রিগা, হুমকি দিলো পেত্রোগাদকে।

আগস্ট ২৬ – সরকার শস্যের দাম দ্বিগুন করে দিলো। মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেন, যাতে কেরেনস্কি যা খুশী তাই করতে পারেন।

আগস্ট ২৭ – কেরেনস্কি কর্নিলভকে অপসারণ করার চেষ্টা চালালেন, যিনি তার নির্দেশ উপেক্ষা করে পেত্রোগাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। প্রতিবিপ্লবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলে সোভিয়েত কমিটি গঠন।

আগস্ট ২৮-৩০ – কর্নিলভের ক্যু-প্রয়াস ব্যর্থ হয়ে গেলো, যেহেতু শ্রমিকরা আগে থাকতেই স্যাবোটেজ করলেন, এবং তার সৈন্যরা দলত্যাগ করলেন।

সেপ্টেম্বর ১ – মগিলিয়েভের সাধারণ সদরদপ্তরে কর্নিলভ গ্রেপ্তার হলেন। বলশেভিক রেজল্যুশন প্রথমবারের মতো পেত্রোগাদ সোভিয়েতকে বহন করলো। রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হল।

সেপ্টেম্বর ৪ – প্রভিশনাল সরকার ট্রটস্কিকে জামিনে মুক্তি দিলো।

সেপ্টেম্বর ৫ – বলশেভিক রেজল্যুশন মস্কো সোভিয়েতকে বহন করলো।

সেপ্টেম্বর ৯ – পেত্রোগাদ সোভিয়েতে বলশেভিকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলো। আপোসকামী সভাপতিমণ্ডলীর পদত্যাগ।

সেপ্টেম্বর ১৪ – পেত্রোগাদে গণতান্ত্রিক সম্মেলনের উদ্বোধন।

সেপ্টেম্বর ২১ – প্রজাতন্ত্রের একটি কাউন্সিল বা প্রাক-সংসদ নির্বাচিত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সম্মেলনের সমাপ্তি। পেত্রোগাদ সোভিয়েত অক্টোবর ২০এ নিখিল-রুশ সোভিয়েত সম্মেলনের ডাক পাঠালো।

সেপ্টেম্বর ২৪ – কেরেনস্কিকে প্রেসিডেন্ট করে শেষ কোয়ালিশন সরকার গঠিত।

অক্টোবর ৭ – বলশেভিকরা প্রজাতন্ত্রের কাউন্সিল থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করলো।

অক্টোবর ৯ – পেত্রোগাদ সোভিয়েত বিপ্লব প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করতে ভোট দিলো।

অক্টোবর ১০ – বলশেভিকদের কেন্দ্রীয় কমিটি সশস্ত্র বিদ্রোহকে একটি আশু কর্তব্য গণ্য করা লেনিনের প্রস্তাব গ্রহণ করলো।

অক্টোবর ১৩ – পেত্রোগাদ সৈনিকদের সোভিয়েত সামরিক কর্তৃত্বকে সদরদপ্তরের কাছ থেকে সামরিক বিপ্লবী কমিটির কাছে হস্তান্তরিত করলো। সোভিয়েতদের উত্তর আঞ্চলিক কংগ্রেস আসন্ন নিখিল-রুশ কংগ্রেসকে অনুমোদন দিলো, এবং ঘোষণা করলো সোভিয়েত ক্ষমতা।

অক্টোবর ১৫ – কিয়েভ সোভিয়েত সোভিয়েত ক্ষমতা ঘোষণা করলো।

অক্টোবর ১৬ – মিনস্কে সোভিয়েতদের দক্ষিণ-পশ্চিম আঞ্চলিক কংগ্রেস সোভিয়েত ক্ষমতা ঘোষণা করলো। জিনোভিয়েত ও কামেনেভের বিরোধিতার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের পক্ষে লেনিনের যে নীতি, বলশেভিকদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা তা পুনঃনিশ্চিত করলো।

অক্টোবর ১৭ – বলশেভিক উত্থানের গুজব বাস্তবে রূপলাভ ব্যর্থ হলো। জিনোভায়েভ ও কামেনেভ পাবলিক প্রেসে বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটির বিদ্রোহী নীতিকে আক্রমণ করলেন। নিখিল-রুশ সোভিয়েত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি অক্টোবর ২০ থেকে অক্টোবর ২৫এ অনুষ্ঠিতব্য সোভিয়েতদের নিখিল-রুশ কংগ্রেস স্থগিত করলেন।

অক্টোবর ১৯ – উরাল আঞ্চলিক সোভিয়েত কংগ্রেস সোভিয়েত ক্ষমতা ঘোষণা করলো।

অক্টোবর ২০ – বিপ্লব প্রতিরক্ষা কমিটি, যা সামরিক বিপ্লবী কমিটি নামেও পরিচিত, বিদ্রোহের জন্য সক্রিয় প্রস্তুতি নিতে লাগলো।

অক্টোবর ২২ – পেত্রোগাদ জুড়ে প্রচুর সভা অনুষ্ঠিত, যেহেতু সোভিয়েত শক্তি পুনর্মূল্যায়নের জন্য গতিশীল হচ্ছিলো।

অক্টোবর ২৩ – পিটার ও পল দূর্গ, পেত্রোগাদে শেষ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রতিবন্ধক, সোভিয়েতদের হাতে এলো।

অক্টোবর ২৪ – প্রভিশনাল সরকার সামরিক বিপ্লবী কমিটির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ ইস্যু করলো, বলশেভিকদের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করতে, এবং রাজধানীতে অনুগত সৈন্যসমাবেশ ঘটাতে। এসব নির্দেশের একটাও কখনোই বাস্তবায়িত হয় নি। কেরেনস্কি প্রজাতন্ত্রের কাউন্সিলে তার শেষ বক্তব্যটা দিলেন। সোশালিস্ট রেভল্যুশনারিদের বাম অংশ (লেফট এস-আর) সামরিক বিপ্লবী কমিটিতে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলো।

অক্টোবর ২৫ – বিদ্রোহ শুরু হল আগের দিন রাত ২টায়। পরদিন বেলা ১২টার মধ্যে প্রজাতন্ত্রের কাউন্সিল বন্ধ হয়ে গেলো। দুপুর ৩টায় পেত্রোগাদ সোভিয়েতের একটি অধিবেশনে লেনিন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা দিলেন। রাত ৯টায় শীত প্রাসাদে প্রভিশনাল সরকারের আসনের বিরুদ্ধে অপারেশন শুরু হল। রাত ১১টায় স্মলনিতে সোভিয়েতদের দ্বিতীয় নিখিল-রুশ কংগ্রেসের উদ্বোধন।

অক্টোবর ২৬ – শীত প্রাসাদের পতন এবং রাত ২টায় প্রভিশনাল সরকার গ্রেপ্তার।

অক্টোবর ২৬ ও ২৭ – সোভিয়েতদের দ্বিতীয় নিখিল-রুশ কংগ্রেস শান্তি ও জমির ডিক্রি পাশ করলো, এবং জনকমিশারদের কাউন্সিলের নতুন সরকার গঠন করলো। আটঘন্টা শ্রম ও ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হল ডিক্রিতে। মৃত্যুদণ্ড অবলুপ্ত করা হল। কংগ্রেস স্থগিত করা হল ৫টায়, অক্টোবর ২৭এ। সেদিনই বলশেভিকদের প্রথম সেন্সরশিপ আদেশ জারি হল। নিষিদ্ধ করা হল বুর্জোয়া প্রেস।

অক্টোবর ২৯ – প্রতিবিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত। জেনারেল ক্রাসনভ জারস্কো সেলোতে সৈন্য সমাবেশ ঘটালেন। পেত্রোগাদের সামরিক স্কুলের কাদেতরা বিদ্রোহ ঘোষণা করলো, বলশেভিকরা এক দিনেই দমন করলেন বিদ্রোহ।

অক্টোবর ৩১ – পুলকভোর যুদ্ধ। কেরেনস্কির প্রতি-আক্রমণ। ব্যর্থ হলো যদিও।

নভেম্বর ৭ – ইউক্রেনীয়রা জনপ্রজাতন্ত্র, ভিন্ননামে জাতীয় প্রজাতন্ত্র, গঠন করলো।

নভেম্বর ১২ – সংবিধানসভা নির্বাচন হল। সোশালিস্ট রেভল্যুশনারিরা সর্বোচ্চসংখ্যক আসন জিতলেন। বলশেভিকরা এক-চতুর্থাংশেরও কম ভোট পেলেন।

মধ্য নভেম্বর – বলশেভিক সরকার সাংবিধানিক গণতন্ত্রী পার্টিকে নিষিদ্ধ করলো, কাদেত নেতাদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিলো।

নভেম্বর ১৯ – বাইকভ কারাগার থেকে কর্নিলভ পালালেন।

নভেম্বর ২৩ – ফিনল্যাণ্ড রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো।

ডিসেম্বর –  প্রত্যেক ব্যক্তি এক পাউন্ডের চারভাগের একভাগ রুটি পাবেন। খোলাবাজারে রুটি আর ময়দা বিক্রি হতে লাগলো। যদিও আকাশছোঁয়া দামে। ২ তারিখে কেন্দ্রীয় শক্তির সাথে যুদ্ধবিরতি সাক্ষরিত। লড়াই থেমে গেলো। ৭ তারিখে বলশেভিক সরকার ফেলিক্স জেরঝিনস্কিকে কমরেড ইন চার্জ করে গোপন পুলিশ চেকা, কেজিবির পূর্বসুরী, গঠন করলো। যার ঘোষিত উদ্দেশ্য প্রতিবিপ্লব ও অন্তর্ঘাত ঠেকানো।

ডিসেম্বর ১০ – মলদাভিয়ানরা রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো।

ডিসেম্বর ১৮ – রাশিয়া ফিনল্যাণ্ডের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিলো।

ডিসেম্বর ২৮ – কসাকরা রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো, গঠন করলো দন প্রজাতন্ত্র।

ডিসেম্বর ৩০ – লাতভিয়ানরা রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো।

।। গৃহযুদ্ধ ।।

১৯১৮

জানুয়ারি ৫-৬  – ৫ তারিখে সংবিধানসভা বসলো। বলশেভিকরা দাবি তুললেন কর্তৃত্ব দিতে হবে তাঁদেরকে। সংবিধানসভা অস্বীকৃতি জানালো। প্রতিবাদে বলশেভিকরা ও  লেফট এস-আররা ওয়াকআউট করলেন। ৬ তারিখে বলশেভিক সরকার সংবিধানসভা ভঙ্গ করতে সৈন্য পাঠালো। সংবিধানসভা অবলুপ্ত হয়ে গেলো।

জানুয়ারি ৯ – ইউক্রেনিয়ানরা রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো।

জানুয়ারি ১৫ – জনকমিশার কাউন্সিল (সোভনারকম) কৃষক ও শ্রমিকদের লাল ফৌজ গঠনের ডিক্রি ঘোষণা করলো। ফিনল্যাণ্ডে গৃহযুদ্ধ শুরু। রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায়।

জানুয়ারি ২০ – অর্থোডক্স চার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো।

ফেব্রুয়ারি ১৩ – রাশিয়া পশ্চিমা (গ্রেগরিয়ান) ক্যালেণ্ডার গ্রহণ করে নিলো, এখান থেকে লেখার বাকি অংশের তারিখ নতুন ক্যালেন্ডার অনুসারে হবে।

ফেব্রুয়ারি ১৬ – লিথুয়ানিয়ানরা রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো।

ফেব্রুয়ারি ২৪ – এস্তোনিয়ানরা রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো।

মার্চ ৩ – ব্রেস্ত-লিতভস্ক চুক্তি সাক্ষরিত। রাশিয়া নিজেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে প্রত্যাহার করলো, লাল ফৌজ পিছু হটলো কিয়েভ থেকে। বলশেভিক রাশিয়া পুরনো সাম্রাজ্যের এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে, এর রেলওয়ে নেটওয়ার্কের এক-তৃতীয়াংশ, এর ইন্ডাস্ট্রির অর্ধেক, এর লৌহ আকরিক সরবরাহের চারভাগের তিনভাগ, এর কয়লা সম্পদের দশভাগের নয়ভাগ, এবং এর খাদ্য সরবরাহের প্রায় পুরোটাই।

মার্চ ৮ – রুশ সোশাল ডেমোক্রেটিক ওয়ার্কার্স পার্টির সপ্তম কংগ্রেসে বলশেভিকরা পার্টির নাম পরিবর্তন করে রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি রাখলো, এ’বছরই রাজধানি পেত্রোগাদ থেকে স্থানান্তরিত হলো মস্কোয়।

মার্চ ১৩ – জার্মানরা নিয়ে নিলো ওদেসা।

মার্চ ১৭ – জার্মানরা নিয়ে নিলো নিকোলায়েভ।

মার্চ ২৬ – লিয়ন ট্রটস্কি পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশারের দপ্তর থেকে পদত্যাগ করলেন, হলেন নতুন যুদ্ধবিষয়ক কমিশার। জানুয়ারিতেই লাল ফৌজ গঠিত হলেও বাকি ছিল বহু কাজ। ট্রটস্কি ফৌজকে গোছালেন, নিয়োগ দিলেন আগের সাম্রাজ্যিক সেনাবাহিনীর বহু সামরিক অফিসারকে, যাদের কেউ কেউ অন্যদের তুলনায় স্বেচ্ছামূলকভাবেই যোগ দিলেন।

এপ্রিল ৫ – ব্রিটিশ ও জাপানি মেরিনে অবতরণ করলো ভ্লাদিভস্তকে।

এপ্রিল ১৩ – কর্নিলভ নিহত, শ্বেত ফৌজের নতুন কমাণ্ডার দেনিকিন।

মে – কেরেনস্কি এতোদিন পলাতক ছিলেন, এখন তিনি চলে গেলেন পশ্চিম ইওরোপে।

মে ১ –  জার্মানরা নিয়ে নিলো সেবাস্তোপোল।

মে ২৯ – যুদ্ধবিষয়ক কমিশারের অধিকারবলে লিয়ন ট্রটস্কি চেক লিজিয়নকে অস্ত্র সমর্পণের আহবান জানালেন। তারা অস্বীকার করলো, এবং ট্রান্স-সাইবেরীয় রেলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেক লিজিয়নের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করলো।

জুন ৭ – চেলিয়াবিনস্কে লাল ফৌজের সাথে চেক লিজিয়নের সশস্ত্র সংঘাত, চেক লিজিয়ন এবং সোশালিস্ট রেভল্যুশনারিরা ভলগা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠা করলো ভলগা প্রজাতন্ত্র।

জুন ২৩ – ব্রিটিশ সৈন্যরা অবতরণ করলো মুরমানস্কে।

জুলাই ৪-১০ – পঞ্চম নিখিল-রুশ সোভিয়েত কংগ্রেস অনুষ্ঠিত। যে লেফট এস-আররা আগে বলশেভিক সরকারে অংশ নিয়েছিলেন তাদেরকে বহিষ্কার করা হল। রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেটড সোশালিস্ট রিপাবলিক (আরএসএফএসআর)’এর সংবিধান গৃহীত হল ১০ তারিখে, যা নারী ও পুরুষকে সমানাধিকার দিলো।

জুলাই ১৬-১৭ রাত্রি – বলশেভিকরা জার দ্বিতীয় নিকোলাস ও তার পরিবারকে একাতেরিনবার্গে এগজিকিউট করলেন, রোমানভ রাজতন্ত্রের সাথে রুশ সাম্রাজ্যের অবসান ঘটলো।

আগস্ট ২ – ব্রিটিশ ও ফরাশি সৈন্যরা অবতরণ করলো আরখাঙ্গেলস্কে।

আগস্ট ১১ – জাপানি সৈন্যরা ভ্লাদিভস্তকে নামলো।

আগস্ট ৩০ – সোশালিস্ট রেভল্যুশনারি পার্টির জনৈক তরুণী ফ্যানি ক্যাপলান তিনটি গুলি করে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনকে আততায়িত করার চেষ্টা করেন। লেনিন বেঁচে যান। একইদিন খুন হন পেত্রোগাদ চেকার সভাপতি উরিৎস্কি।

সেপ্টেম্বর ২ – সামরিক বিপ্লবী কাউন্সিল (রেভয়েনসভেত) গঠিত। কাউন্সিলটি কাজ করবে লাল ফৌজের এগজিকিউটিভ বোর্ড হিসেবে। বলশেভিক সরকার ‘লাল সন্ত্রাসের’ সূত্রপাত ঘটায়।

সেপ্টেম্বর ৪ – মুরমানস্কে মার্কিন সৈন্যরা ব্রিটিশ সৈন্যদের সাথে যোগ দেয়।

সেপ্টেম্বর ৫-১০ – কাজান যুদ্ধে লাল ফৌজের হাতে পরাজিত হয় শ্বেত ও চেকরা।

অক্টোবর ৭ – লাল ফৌজ নিয়ে নেয় সামারা।

নভেম্বর ১১ – জার্মানদের অস্ত্রবিরতি সাক্ষর, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হল।

নভেম্বর ১৮ – অ্যাডমিরাল ভাসিলিয়েভিচ কলচাক শ্বেত ফৌজের নতুন সর্বাধিনায়ক।

ডিসেম্বর ৮ – সুইজারল্যাণ্ড সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো।

ডিসেম্বর ১৮ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় কৃষ্ণ সাগরকে উন্মুক্ত করলো মিত্রপক্ষের জন্য, ফরাশি সৈন্যরা দখল করে নিলো ওদেসা, শ্বেত ফৌজকে সাহায্য করতে।

১৯১৯

জানুয়ারি ১৮ – ভার্সাই শান্তি সম্মেলন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী পক্ষ পরাজিত পক্ষের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। গৃহযুদ্ধ চলায় রাশিয়া উপস্থিত থাকতে পারলো না। মিত্রপক্ষ প্রস্তাব দিলো রাশিয়ায় যুদ্ধরত সকল পক্ষ প্রিনকিপো দ্বীপে আলোচনায় বসবে। লালরা রাজি হল। শ্বেতরা প্রত্যাখ্যান করলো।

মার্চ – মার্কিন কূটনীতিক উইলিয়াম সি. বুলিট মস্কো সফর করলেন এবং বলশেভিকদের কাছ থেকে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আসলেন। মিত্রপক্ষ প্রত্যাখ্যান করলো। তারা শ্বেত ফৌজকে মদত দেয়া অব্যাহত রাখলো।

মার্চ ২২ – হাঙ্গেরিতে একটি বলশেভিক সরকার গঠিত হল।

এপ্রিল ৮ – লাল ফৌজের অগ্রাভিযানে মিত্রপক্ষে ওদেসা থেকে সরলো, ইউক্রেনে প্রতিষ্ঠিত হল একটি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র।

মে ১৮ – সোভিয়েত সরকার রোমানিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো।

মে ২৮ – আর্মেনিয়ানরা রাশিয়া থেকে তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করলো।

জুন ৬ – ফিনল্যাণ্ড সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো।

আগস্ট – ব্রিটিশরা আরখাঙ্গেলস্ক আর মুরমনস্ক থেকে সরলো।

সেপ্টেম্বর – শ্বেত ফৌজ মস্কোর দিকে এগোতে লাগলো।

ডিসেম্বর ১৭ – কলচাক পদত্যাগে বাধ্য হলেন, জেনারেল নিকোলাই সেমেনভ সাইবেরিয়ায় শ্বেত রুশ সরকারের নতুন নেতা।

১৯২০

ফেব্রুয়ারি ১ – রাশিয়া আর লাতভিয়ার মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি সাক্ষরিত।

ফেব্রুয়ারি ৭ – কলচাক নিহত, আঙ্গারা নদীতে ছুঁড়ে ফেলা হল তার লাশ।

মার্চ ২৭ – শ্বেত ফৌজের নতুন নেতা পিওতর এন. র‍্যাঙ্গেল।

এপ্রিল ২৮ – লাল ফৌজ নিয়ে নিলো বাকু।

জুলাই ১২ – মস্কো চুক্তি, রাশিয়া লিথুয়ানিয়ার স্বাধীনতা সমর্থন করলো।

অক্টোবর ১২ – রাশিয়া আর পোল্যান্ডের রিগা যুদ্ধবিরতি চুক্তি সাক্ষর।

নভেম্বর ৭-১৫ – মিখাইল ফ্রুঞ্জের নেতৃত্বে লাল ফৌজ শ্বেত ফৌজকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করলো, দীর্ঘ তিন বছরের গৃহযুদ্ধে জয় হল কমিউনিস্টদের।

।। গৃহযুদ্ধের পরে ।।

১৯২১

রুবল তার প্রাক-যুদ্ধ মূল্যের ৯৬ শতাংশ হারিয়েছে। শিল্পোৎপাদন ১৯১৩র তুলনায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। ১৯১৭য় পেত্রোগাদের জনসংখ্যা ছিলো ২৫ লাখ, ১৯২১এ তা নেমে এসেছে ৬ লাখে। মার্চে বলশেভিকদের বিরুদ্ধে ক্রনস্তাদে একটি বিদ্রোহ ঘটে। কিন্তু ব্যর্থ হয়। ‘যুদ্ধ সাম্যবাদ’ সমাপ্ত। লেনিন নয়া অর্থনৈতিক নীতি (নেপ) গ্রহণ করেন।

১৯২২

স্তালিন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন, ডিসেম্বরে গঠিত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।

১৯২৪

জানুয়ারি ২১ – লেনিন মৃত্যুবরণ করেন। পার্টির ভেতরে ব্যাপক ক্ষমতা সংগ্রাম শুরু হয়। পার্টি নেতা হিসেবে উত্থান ঘটে স্তালিনের, ট্রটস্কি ১৯২৯এ সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে নির্বাসিত হন, তারপর ১৯৪০এর ২১ আগস্ট মেক্সিকোর কোয়াসানে খুন হন।

Please follow and like us: