ঈপ্সিতার জন্য রূপকথা

আলোকচিত্র ইন্টারনেটে পাওয়া

এক দেশে ছিলো, মেয়ে, রাজকন্যা এক
সে কেমন বুঝতে তোর আম্মুকে দ্যাখ
আমি তাকে ছুঁয়ে গেছি পশুরের জলে
সুন্দরী বৃক্ষের পাশে রাত্রির কাজলে
নাম তার ইরাবতি, সাকিন দক্ষিণ
যে আমাকে বলেছিল ছেলে অর্বাচীন

আমি তো ভেবেছি পাবো চিরকাল তাকে
যেভাবে বৃষ্টির ফোঁটা মাটি ছুঁয়ে থাকে
যেভাবে শৈশব কাটে হাওয়াই স্যাণ্ডেলে
ভেবেছি তেমনি তাকে পাবো অন্ত্যমিলে

তারপর সংবাদ এলো একদিন হঠাৎ
বানিয়ার দল এসে গেছে অকস্মাৎ
গরিবের বৌ নাকি সকলের ভাবি
দুঃখটুঃখ করলো বলে আমরা অভাবী
উন্নয়ন করতে দেবে স্বল্পসুদে ঋণ
হাসিমুখে বললো সেই বেহায়া প্রাচীন

বিনিময়ে নিতে হবে কয়লা সামান্যই
ভেবেছিলো বলবো আমি নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই
আমাকে চেনে নি তারা আমি সেই ফকির
মজনু শাহ, দেবী চৌধুরানীর জিকির

আমার ঠিকানা পাবে খোয়াবনামাতে
জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতাতে
রূপসী বাংলায় আর সোনালি কাবিনে
পথের পাঁচালী থেকে আরেক ফাল্গুনে
আমি থাকি সেই বোকা মানুষের ঘরে
যেখানে ভাতের গন্ধ প্রেম হয়ে ঝরে

এটুকু বলতেই মেয়ে চোখ বড়ো করে
দৃষ্টিতে একটাই প্রশ্নঃ কী হল এরপরে
আমি বলি সারিয়েছি ফুসফুসের ক্ষত
সে দেখতে ঠিক তোর আম্মুটার মতো!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *